
কলকাতা: তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। কিন্তু, পুলিশ যেখানে তাঁকে নিয়ে যাচ্ছে, সেখানে চোর চোর স্লোগান শুনতে হচ্ছে। উড়ে আসছে ডিম। এমনকি, তাঁকে লক্ষ্য করে গোবরও ছোড়া হয়েছে। কারা তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ছেন? এই নিয়ে রবিবার ধৃত তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত দাবি করলেন, যাঁরা তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ছেন, তাঁরা সবাই বাইরে থেকে এসেছেন। তবে সব্যসাচীর দাবি উড়িয়ে বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তাঁরা এলাকারই বাসিন্দা। দোকানদার। সব্যসাচীর লোকজন দোকানগুলি থেকে তোলা তুলতেন।
সব্যসাচীকে নিয়ে একাধিক জায়গায় তল্লাশি পুলিশের-
ধৃত সব্যসাচীকে নিয়ে এদিন একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। বিধাননগর পৌরনিগমের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সব্যসাচী। এদিন ওয়ার্ড কার্যালয়ে আনা হয় ধৃত তৃণমূল নেতাকে। তাঁকে ওয়ার্ড কার্যালয়ে আনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই অনেকেই সেখানে অনেকে উপস্থিত হন। তাঁদের অনেকের হাতেই ডিম দেখা যায়।
সব্যসাচীকে নিয়ে পুলিশ পৌঁছতেই ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ সব্যসাচীকে নিয়ে ওয়ার্ড কার্যালয়ের ভিতরে ঢুকে যায়। কিছুক্ষণ পর দেখা যায়, পুলিশকর্মীরা বিভিন্ন কাগজপত্র নিয়ে এসে গাড়িতে তুলছেন। এরপর সব্যসাচীকে যখন ওয়ার্ড কার্যালয় থেকে বের করে আনা হয়, তখন বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ডিম যাতে ধৃত তৃণমূল নেতার গায়ে না লাগে, তার জন্য ঢাল হয়ে দাঁড়ান পুলিশকর্মীরা। তার মধ্যেই ডিম ছুড়তে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। সব্যসাচী গাড়িতে ঢুকে পড়ার পর একজন মহিলাকে দেখা যায়, গাড়ির ভিতরে রীতিমতো হাত ঢুকিয়ে ডিম ছুড়ে বেরিয়ে আসেন।
কেন সব্যসাচীকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়লেন তাঁরা?
সব্যসাচীকে ডিম ছোড়ার কারণ জানতে চাওয়ায় ক্ষোভ উগরে বিক্ষোভকারীরা বলেন, “আমাদের এখানে দোকান রয়েছে। সব্যসাচীর লোকজন মাসে কারও কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা, কারও কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে তোলা নিত।” আর এক বলেন, “তোলা না দিলে মারধর করতে যেত। সেজন্য ডিম নিয়ে এসেছি।” যদিও এদিন পুলিশি ঘেরাটোপের মধ্যে থেকে সব্যসাচী দাবি করেন, “যাঁরা ডিম ছুড়ছেন, তাঁরা কেউ এই ওয়ার্ডের নয়। সবাই বাইরের। উদ্দেশ্য নিয়ে এসব করছে।”
গত ৮ জুন গভীর রাতে সব্যসাচীকে গ্রেফতার করে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ দায়ের করেন মধুসূদন চক্রবর্তী নামে এক ব্যবসায়ী। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই ব্য়বসায়ীর কাছ থেকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক কোটি টাকা তোলা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন বিধায়ক সব্যসাচীর বিরুদ্ধে। এই নিয়ে এদিন সব্যসাচী বলেন, “চোরের মায়ের বড় গলা। তাঁর নামে চারটে মামলা রয়েছে।” আদালতেই সব প্রমাণ হবে বলে তিনি দাবি করেন। এদিন সব্যসাচী দত্তকে নিয়ে রাজারহাট-গোপালপুরের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটেও যায় বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ।