
কলকাতা: তৃণমূলে থাকুন বা বিজেপিতে, বরাবরই দাপুটে নেতার তকমা পেয়েছেন তিনি। গত বছর যখন তাঁর গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন চাকরিহারারা, তখন আঙুল উঁচিয়ে কীভাবে নিজের ‘দাপট’ দেখিয়েছিলেন, সে কথাও অনেকেরই মনে আছে। বলেছিলেন, “আমার ওয়ার্ডে, আমার গাড়ি আটকালে, তো কেউ আর আদর করবে না।” সাংবাদিককেও রেয়াত করেননি। এবার পুলিশের জালে সেই সব্যসাচী দত্ত (Sabyasachi Dutta)। কোটি টাকার তোলাবাজির মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পরও বিশেষ বিব্রত নন বিধাননগর পুরনিগমের চেয়ারম্যান সব্যসাচী।
কোটি টাকার তোলাবাজির অভিযোগে বিধাননগর উত্তর থানায় হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতে সোমবার গভীর রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে সব্যসাচী দত্তকে। এক ব্যবসায়ী তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, খুনের হুমকি, মানসিক নির্যাতনের মতো অভিযোগ তোলেন। গ্রেফতার হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে অকপটে সেই অভিযোগ অস্বীকার করেন সব্যসাচী। তিনি বলেন, “এক কোটি কেন, ১০০ কোটিও বলতে পারে। এক টাকাও যদি কোনও দিন আমাকে দিয়ে থাকে, তাহলে আমাকে ফাঁসিকাঠে তুলে দিক।”
শুধু তাই নয়, অভিযোগ অস্বীকার করে সব্যসাচীর দাবি, একসময় তাঁর কাছেই জামিনের আর্জি জানাতে এসেছিলেন অভিযুক্ত ওই ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, “উনি নিজেই ২০১৮ সালে গ্রেফতার হয়েছিলেন। বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছিল। আরও একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছেন। সেই সময় তাঁর পরিবারের লোক ও এক ব্যবসায়ী ‘বেল’ করিয়ে দেওয়ার জন্য আমার কাছে এসেছিলেন।” এটা কি আদতে প্রতিহিংসা? উত্তরে সব্যসাচী বললেন, ‘নিশ্চয়’। সেই পুরনো মেজাজেই উত্তর দিলেন সব্যসাচী।
সোমবার বিকেলেই ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সব্যসাচী দত্তর বিরুদ্ধে বিধাননগর উত্তর থানায় এফআইআর করেন মধুসূদন চক্রবর্তী নামে এক ব্যবসায়ী। সব্যসাচীর বিরুদ্ধে কোটি টাকার তোলবাজির অভিযোগ করেন। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০১৮ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে মধুসূদন চক্রবর্তীর কাছ থেকে এক কোটি টাকা তোলা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।