
কলকাতা: বিষ্ণুপুরের বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের বিরুদ্ধে আইনি ফাঁস আরও শক্ত হল। এদিন আলিপুর আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে ২০১৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট ১১টি মামলার নথি পেশ করা হয়েছে। ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, খুনের চেষ্টা, অগ্নিসংযোগ, মারধর এবং হুমকির মতো একাধিক গুরুতর ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। এদিন আদালতে সওয়াল-জবাব চলাকালীন সরকারি আইনজীবী দিলীপ মণ্ডলকে একজন ‘নটোরিয়াস ক্রিমিনাল’ বলেও উল্লেখ করেন।
আদালতে পেশ করা মামলাগুলির চর্চায় রয়েছে ২০১৪ সালের একটি ঘটনা। অভিযোগ, সে বছর দিলীপ মণ্ডলের উপস্থিতিতেই তাঁর সহযোগীরা একটি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। ওই বাড়ির এক মহিলাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ। এই মামলায় আগে গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তি আলমগীর সাঁপুই ও কৌশিক বাগের বয়ান থেকে ঘটনাস্থলে বিধায়কের উপস্থিতির কথা প্রমাণ হিসেবে আদালতে পেশ করা হয়। এই সুনির্দিষ্ট মামলায় এদিন আদালত দিলীপ মণ্ডলের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
এর পাশাপাশি, ২০২৬ সালে রুজু হওয়া অন্য একটি ধর্ষণের মামলায় দিলীপ মণ্ডলকে এদিনই নতুন করে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পেশ করে পুলিশ। এই মামলার ডায়েরি খতিয়ে দেখে এবং তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায়। এই মামলায় উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর আলিপুর আদালত দিলীপ মণ্ডলকে আগামী ৭ জুন পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
এছাড়াও, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর পুলিশ এবং বিজেপি কর্মীদের হুমকি দেওয়ার একটি গুরুতর অভিযোগও রয়েছে বিধায়কের বিরুদ্ধে। সেই মামলায় ওড়িশার পুরী থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে আনা হয়েছিল। এদিন আদালত ওই হুমকি মামলায় দিলীপ মণ্ডলকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। ফলে এখন টানা জেলেই থাকতে হচ্ছে দাপুটে দিলীপকে।