
কলকাতা: হাইকোর্টে বড় স্বস্তি তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের (Mahua Moitra)। সাংসদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। আগেই গ্রেফতারি পরোয়ানায় স্থগিতাদেশ দিয়েছিল আদালত। এবার তা খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। এছাড়া, এই মামলায় অন্য নির্দেশগুলিও খারিজ করা হয়েছে।
জুলাই মাসে তৃণমূল সাংসদের বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়। এই মামলায় একাধিকবার তাঁকে সমন দেয় কৃষ্ণনগরের তৃতীয় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। কিন্তু, মহুয়া মৈত্র হাজিরা না দেওয়ায় গত মাসে কৃষ্ণনগরের জেলা আদালত সাংসদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
জেলা আদালতের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মহুয়া। সেইসময় সাংসদের গ্রেফতারি পরোয়ানায় স্থগিতাদেশ দিয়েছিল আদালত। সোমবার ফের এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি আর্যক দত্তের ডিভিশন বেঞ্চে। মামলার শুনানিতে ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, মহুয়ার বিরুদ্ধে কৃষ্ণনগর আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা-সহ যাবতীয় নির্দেশ খারিজ করা হচ্ছে।
মামলার শুনানি ছিল বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি আর্যক দত্তের ডিভিশন বেঞ্চে। আদালত কৃষ্ণনগর কোর্টের যাবতীয় নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছে। একইসঙ্গে কৃষ্ণনগর আদালত থেকে এই মামলা সরিয়ে বিধাননগর MP-MLA বিশেষ আদালতে স্থানান্তর করল ডিভিশন বেঞ্চ।
মহুয়ার বিরুদ্ধে হওয়া মামলায় BNS-এর একাধিক ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। ৭৯ ধারা (নারীর শ্লীলতাহানি/মর্যাদাহানির অভিযোগ ১৯৬ ধারা (গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা উস্কে দেওয়ার অভিযোগ) ২৯৯ ধারা (ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ) ৩৫১ ধারা (অপরাধমূলক ভয় দেখানোর অভিযোগ) ৩৫৩(২) ধারা (বিদ্বেষমূলক বক্তব্য সংক্রান্ত অভিযোগ)।
সম্প্রতি তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশও দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছিলেন, মহুয়া যখনই তাঁর লোকসভা কেন্দ্রে প্রবেশ করবেন, তখন তাঁর সঙ্গে দু’জন পুলিশকর্মী মোতায়েন করতে হবে, যাতে তাঁকে কোনও ভাবে হয়রানি বা সমস্যার মুখে পড়তে না হয়।