
শুভেন্দুর জন্মই হয়েছে রাজনীতি করার জন্য: শতাব্দী
কলকাতা: তিনি অভিনেত্রী। ২০০৯ সাল থেকে বীরভূমের সাংসদ। ১৭ বছর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হাত’ ছেড়েছেন। লোকসভায় তৃণমূলের নতুন ব্লকে নাম লিখিয়েছেন। কিন্তু, হঠাৎ কেন তৃণমূল সুপ্রিমোর হাত ছাড়লেন? TV9 বাংলায় এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তার কারণ জানালেন শতাব্দী রায়। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও ভূয়সী প্রশংসা করলেন বীরভূমের তৃণমূল সাংসদ।
বিক্ষুব্ধ সাংসদদের নিয়ে কী বললেন শতাব্দী রায়?
লোকসভায় তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের এক জায়গায় আসা নিয়ে শতাব্দী বলেন, “আমি কারও সঙ্গে যোগাযোগ করিনি। আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ওখানে গিয়ে অনেকের সঙ্গে দেখা হয়েছে। আরও আসবে বলে শুনছি। এখন আমরা একটা ব্লক হয়ে রয়েছি। এটা একটা প্রতিবাদের প্রতীক। বোঝাচ্ছি যে তোমরা যে ভুল করছ, তার সঙ্গে আমরা নেই।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কী বললেন শতাব্দী?
তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা অটুট জানিয়ে শতাব্দী বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমি মানসিকভাবে জড়িত। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা রয়েছে। তাঁর প্রতি ভালোবাসা রয়েছে। এবং এখনও আমি বিশ্বাস করতে পারছি না, আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নেই। এখনও মুখ্যমন্ত্রী বলতে গেলে একবার থামি। ভাবি, কার কথা বলছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি ২০০৯ সালে তৃণমূলে আসি। তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় ছিলেন না। ফলে আমি যে ভালো সময়ে এসেছি, তা নয়। আমি ওঠা-নামায় থেকেছি। আমাদের প্রত্যেকেরই কিছু অবদান রয়েছে।”
বিধানসভা ভোটের ফলের পর মমতার সঙ্গে তাঁর কথা হয়নি জানিয়ে শতাব্দী বলেন, “আমার সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাইরেক্ট কোনও কথা হয়নি। এখানে চলে আসার আগে দিদি আমাকে ফোন করলে ভালো লাগত। কিছু অভিমান কম হত। আমি হয়তো কিছু বলতাম। দিদি প্রয়োজন মনে করেনি, তাই ফোন করেনি।”
কেন তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ালেন?
শতাব্দী বলেন, “যেটা আস্তে আস্তে হয়ে গেল, দল কারও কথা শুনত না। যদি আমার কথা না শুনে ঠিক কাজ করো কিংবা আমার ভুল পরামর্শ না শুনে ঠিক কাজ করো, তাহলে আমি তোমার সঙ্গে রয়েছি। কিন্তু, তুমি যদি সঠিক পরামর্শ না নিয়ে পরের পর ভুল করো এবং ভুলকে সমর্থন করো, তাহলে তো সেখানে প্রয়োজন নেই।”
কিছুটা ক্ষোভের সুরে তিনি বলেন, “শুনলেও পদক্ষেপ করা হত না। তাহলে তুমি কি করে গদ্দার বলো? কোথাও দেখেছ, একমাস একটা দল ভেঙে গিয়েছে? দলের সমস্যা না শুনে যদি তুমি মনে করো আমিই শেষ কথা, সেই জায়গা থেকে সবাই বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে।”
নতুন সরকারের প্রশংসা শতাব্দীর-
বাংলায় বিজেপি সরকার এসেই যেসব কাজ করছে, তার প্রশংসা করে শতাব্দী বলেন, “আমিও ভেবেছিলাম নির্বাচনী প্রচারে জুমলা দিচ্ছে। কিন্তু, এসেই কাজ করছে এরা। ক্ষমতায় এসেই মহিলাদের জন্য সরকারি বাস ফ্রি করে দিয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করেছে। সাতদিনের মধ্যে অনেকগুলো পদক্ষেপ করেছে। যেগুলো মানুষ দেখছেন।”
এরপর তিনি বলেন, “এখনও পর্যন্ত দেখছি, ভালো শুরু হয়েছে। ওদেরও প্রমাণ করার জায়গা রয়েছে। আমরা ভাবতাম, ডবল ইঞ্জিন সরকারে কাজ হয় না। সেটা উল্টো হয়েছে। বহু প্রকল্প নিইনি আমরা। বহু কর্মসূচিতে যাইনি। যার ফলে উন্নয়নে বাধা পেয়েছে। এখন ওরা নিজেদের স্বার্থে ভালো করবে। সেই ভালোর সঙ্গে আমরাও জুড়ে গেলাম।”
শুভেন্দুকে নিয়ে কী বললেন শতাব্দী?
দিল্লিতে ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের বৈঠকে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরে শতাব্দী রায়ের দিল্লির বাড়িতে গিয়েও তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের সঙ্গে দেখা করেন শুভেন্দু। এই নিয়ে শতাব্দী বলেন, “আমরা কাজ করতে পারব কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়। উনি একটা কমিটমেন্ট করেছেন যে আপনারা সাংসদ তহবিলের টাকা ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী তহবিল থেকে উন্নয়নের জন্য সাহায্য করা হবে। আমরা সাংসদ তহবিলের টাকা ছাড়া উন্নয়নের জন্য কিছু পেতাম না। যদি রাজ্যসভার সাংসদদের কাছ থেকে চাওয়া হত, তাও দেওয়া হত না। দ্বিতীয় একটা কথা, শুভেন্দু বারবার বলছেন, আপনার অপেক্ষা করুন, আমরা উন্নয়ন করব। উন্নয়নের জন্য মানুষ আমাদের সঙ্গে থাকবেন।”
এরপরই শুভেন্দুর প্রশংসা করে তিনি বলেন, “আমার ওর প্রতি একটা জায়গায় ভরসা রয়েছে, ও লড়াকু নেতা। দ্বিতীয়ত, ও রাজনীতিবিদ। জন্মেছেই রাজনীতি করার জন্য। রাজনীতি ছাড়া ওর জীবনে আর কিছু জীবন নেই। প্রণব মুখোপাধ্যায় টাইপের। তাছাড়া ওদের দলে টিম ওয়ার্ক রয়েছে। সেই জন্য আমার মনে হয়, ভালো ফল হবে।”