
কলকাতা: জাল সই-কাণ্ডে তৎপর সিআইডি (CID)। নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ সহ একাধিক তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। এমনকী দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) কালীঘাটের বাড়িতে গিয়েও নোটিস দিয়ে আসে সিআইডি। বিধানসভায় জমা দেওয়া রেজোলিউশনে করা বিধায়কদের সই নিয়েই যে তদন্ত চলছে, তা আগেই প্রকাশ্য়ে এসেছে। কাদের অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হল, এবার সেই তথ্য সামনে আনলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু জানিয়েছেন, তৃণমূলেরই দুই বিধায়কের করা অভিযোগের ভিত্তিতে সই নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি। আর সেই দুই বিধায়কের নাম ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা।
শুভেন্দু জানিয়েছেন, বিরোধী দলনেতা বাছাইয়ের যে রেজোলিউশন জমা দেওয়া হয়েছিল, তা সঠিক নয়। ওই রেজোলিউশনে থাকা ১৪ জনের সই ব্লক লেটারে লেখা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন ঋতব্রত ও সন্দীপন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে, স্পিকারের নির্দেশে বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি হেয়ার স্ট্রিট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় সিআইডি-র হাতে। এরপরই ১৩ জন তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে যায় সিআইডি।
নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, অরূপ রায়, চন্দ্রনাথ সিনহা, তাপস মাইতি, তাপস মণ্ডল, শুভাশিস দাস, তোরাফ হোসেন মণ্ডল, দীনেন রায়, আব্দুল আজিজ, তোসিফুর রহমান, আব্দুল মতিন, বাহরুল ইসলাম। এদের মধ্যে তিনজন বিধায়ক স্বীকার করেছেন যে সই আমাদের নয়। তাঁরা হলেন, বাহরুল ইসলাম, শুভাশিস দাস ও অরূপ রায়। বাহরুল এও জানান যে তিনি কলকাতাতেই যাননি, বাড়িতেই ছিলেন।
শুভেন্দু বলেন, “সিআইডির সামনে তিন জন স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁরা কেন ফাঁসবেন? রেজোলিউশন তো আমাদেরও দিতে হয়েছিল ২০২১-এ। এরা এত দুর্নীতিগ্রস্ত।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, আইন অনুযায়ী সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।