
নদিয়া: তৃণমূলের বিজয় মিছিল। সেখান থেকে বোমা ছোড়ার অভিযোগ। মৃত্যু হয় ছ’বছরের ছোট্ট শিশু তামান্নার। মঙ্গলবার ছিল সেই তামান্না খাতুনের মৃত্যুর এক বছর। ওই দিনই তামান্নার মা, আনিস খানের বাবা সহ কয়েকটি পরিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তাঁদের সেখানে নিয়ে আসেন সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। কারণ এই পরিবারগুলি সিপিএম সমর্থক হিসাবে পরিচিত। এতদিন সেই কারণে কোনও বিচার পাননি বলে অভিযোগ ছিল তাদের। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দেন বিচারের। আর দেখা গেল যেমন কথা তেমন কাজ। মঙ্গলবার রাতেই তামান্না খুনে অভিযুক্ত গ্রেফতার হলেন দু’জন। এই নিয়ে তামান্নার মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার হন মোট চারজন।
গতকাল রাতে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালায়। তারপর ওই দুই অভিযুক্তকে তাদের লুকিয়ে থাকা গোপন ডেরা থেকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের বুধবার আদালতে তোলা হবে। ঘটনার পর তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন যে অভিযোগ করেছিলেন তাতে ২৪ জনের নাম ছিল। তার মধ্যে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। গতকাল রাত্রে আরও দুজনকে গ্রেফতার করায় গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩। এই দুই অভিযুক্তের নাম ছিল অভিযোগের তালিকায়। ধৃতদের একজনের নাম সাবির শেখ অপরজন জিয়ারুল শেখ।
এ প্রসঙ্গে টিভি ৯ বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “আমাদের শুভেন্দু স্যর আমায় সময় দিয়েছেন। তার জন্য ওঁকে অনেক ধন্যবাদ। একজন মুখ্যমন্ত্রী যে এত শান্ত হয়ে এত কথা শোনেন, আমার মতো ছা পোষা মানুষের কথা যে উনি শুনলেন তার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আমি বাড়ি পৌঁছনোর আগেই সমস্ত অ্যাকশন নিয়েছেন। দুজনকে ওঁর পুলিশ তুলে নিয়েছে। আমার ভরসা ছিল। আমি যদি একবার সরকারের কাছে পৌঁছতে পারি বিজেপি সরকার আমায় বিচার দেবে। আমি কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম। উনি সময় দেননি। তৃণমূলের কেউ সময় দেননি।”