
কলকাতা: ইউজিসির খসড়াকে পত্রপাট খারিজ করল রাজ্য। উপাচার্য নিয়োগে ৩ সদস্যের সার্চ কমিটির কথা বলেছিল UGC। রাজ্যের নিযুক্ত কমিটি মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিনিধির পক্ষে সওয়াল করল। একইসঙ্গে ৫ সদস্যের কমিটি করার দাবিও জোরাল হল। এদিকে শিক্ষাবিদ ছাড়াও অন্য ক্ষেত্রের কেউ উপাচার্য হতে পারবেন, খসড়ায় জানিয়েছিল UGC। কিন্তু, শুধুমাত্র শিক্ষাবিদকেই উপাচার্য করার পক্ষে সওয়াল বাংলার কমিটির। তা নিয়েই চর্চা এখন বাংলার শিক্ষা মহলের অন্দরে। UGC এর খসড়াকে ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।
ব্রাত্যর কথায়, “ইউজিসি উপাচার্য নিয়োগের যে বিধি তৈরি করতে চাইছে তা অগণতান্ত্রিক। যুক্ত রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পক্ষে তা অবমাননাকর। এতে সাংবিধানিক দিক থেকেও রাজ্যের অধিকার ক্ষুন্ন হচ্ছে। নির্দিষ্ট কতগুলি রাজ্যকে টার্গেট করে ওরা এই বিধি লাঘু করতে চাইছে ওরা।”
প্রসঙ্গত, নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের কাছ থেকে সে বিষয়ে মতামত চেয়েছিল ইউজিসি। সেই খসড়া খতিয়ে দেখে মতামত জানানোর জন্য ৮ সদস্যের কমিটি তৈরি হয় বাংলায়। ৩১ জানুয়ারির মধ্যে এই খসড়া নিয়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা করার কথা। এদিন তা নিয়েই হয় বৈঠক। বৈঠক শেষেই কেন্দ্রের উদ্দেশ্য নিয়ে একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলে দিলেন ব্রাত্য। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে তিনি আরও বলেন, “পক্ষ-বিপক্ষ দুই মতই দেখার জন্য আমরা এই কমিটি তৈরি করেছিলাম। সেই কমিটি বৈঠকের পর আমাকে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। তাঁরা পরিষ্কার বলছেন, মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিনিধি রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ক্ষেত্রে থাকা আবশ্যক। ৫ সদস্যের কমিটি করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিনিধি ছাড়াও আচার্যের প্রতিনিধি, ইউজিসির প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি থাকা দরকার আছে। সেই সঙ্গে গণতান্ত্রিকভাবে রাজ্য সরকারের তরফে প্রতিনিধি থাকা উচিত। বৈঠকে ওনারা আমাকে সেই প্রস্তাব দিয়েছেন।” তিনি এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলবেন, এমনকী শীঘ্রই এই প্রস্তাব ইউজিসির কাছেও পাঠাবেন বলে জানান ব্রাত্য।