
কলকাতা: ডবল ইঞ্জিন সরকার আসতেই বাংলায় উন্নয়নের জোয়ার। গঙ্গা নদীর নীচ থেকে কলকাতায় ইতিমধ্য়েই ছুটছে গ্রিন লাইনের মেট্রো (Kolkata Metro)। এবার হুগলি নদীর নীচ থেকে চলাচল করবে গাড়িও (Hooghly River Underwater Tunnel)। সেই পরিকল্পনাই রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের। বন্দর বাণিজ্যে জোয়ার আনতে এবার হুগলি নদীর নীচে করিডর (Hoogly River Corridor) তৈরির পরিকল্পনা রাজ্যের।
তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে বিদ্যাসাগর সেতুর মতো আরেকটি সেতু তৈরির পরিকল্পনা ছিল হুগলি নদীর উপরে। কেন্দ্র এই প্রস্তাবে রাজিও ছিল, কিন্তু প্রাক্তন সরকার সেই নিয়ে আর কাজ এগোতে পারেনি। এবার নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতেই কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে কাজে। এবার আর হুগলি নদীর উপরে নয়, নীচ দিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার বিরাট পরিকল্পনা। জানা গিয়েছে, হুগলি নদীর নীচে তৈরি হবে টানেল (Under Water Tunnel)। তা জুড়বে জাতীয় সড়কের সঙ্গে। এতে কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরের উপরেও চাপ কমবে অনেকটা।
রাজ্য সরকারের যা পরিকল্পনা, সেই অনুযায়ী, কলকাতা থেকে হাওড়ার আলমপুর পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ টানেল তৈরি করা হবে। এই টানেলের সঙ্গে যুক্ত হবে এলিভেটেড করিডর। সঙ্গে রেল ওভারব্রিজ এবং একটি অ্যাপ্রোচ রোডও তৈরি করা হবে। ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে হুগলি নদীর নীচে তৈরি হওয়া সুড়ঙ্গ। বারাণসী-কলকাতা আর্থিক করিডরের সঙ্গে এই টানেল করিডরও যুক্ত হবে ভবিষ্যতে।
হুগলি নদীর নীচে টানেল তৈরি হলে, অনেকটাই চাপ কমবে বিদ্যাসাগর সেতুর। তখন যান চলাচল, বিশেষ করে বন্দরে যাতায়াত করা ট্রাকগুলি এই টানেল দিয়ে যেতে পারবে। বিদ্যাসাগর সেতুতে নিত্যদিনের যানজট কমবে অনেকটা।
এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতিই সাংবাদিক বৈঠকে ঘোষণা করেছিলেন যে প্রশাসনিক রিভিউ মিটিংয়ে মেয়র ও অনেক বিধায়ক হুগলি নদীতে আন্ডার গ্রাউন্ড টানেল তৈরির কথা বলেছিলেন। এটা মূলত জাতীয় সড়ক (NH)-র কাজ, তবে পোর্ট ট্রাস্ট ও শিপিং ডিপার্টমেন্ট নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দিতে রাজি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, নদীগর্ভে এই করিডর তৈরি করতে খরচ হবে আট হাজার কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরের গুরুত্ব আরও বাড়বে। আসবে শিল্প বিনিয়োগ। পণ্য পরিবহনে বিশেষ সুবিধা হবে। বন্দরকে কেন্দ্র করে রফতানি শিল্প আরও বাড়বে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরে যেতে বা আসতে বড় বড় ট্রাক ও পণ্যবাহী গাড়ি বিদ্যাসাগর সেতুর উপরই নির্ভর করতে হয়। এর ফলে ছোট গাড়ির সমস্যা হয়। দুর্ঘটনাও ঘটে। লম্বা জ্যাম তো নিত্যদিনের বিষয়। সেই সমস্যা থেকে অনেকটাই রেহাই দেবে এই টানেল। হুগলি নদীর নীচে এই সুড়ঙ্গ তৈরি হলে, সরাসরি ডক পর্যন্ত পৌঁছে যাবে ট্রাকগুলি। খরচও কমবে অনেকটাই।