
কলকাতা: মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে গতকালই বিরোধীদের নিশানা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ রাজ্যে এসে একই ইস্যুতে তৃণমূলকে একহাত নিয়েছেন তিনি। মোদীর দাবি, ‘তৃণমূল চায় না যে সংসদ ও বিধানসভায় মহিলা সদস্য সংখ্যা বাড়ুক।’ তৃণমূল-সহ সব বিরোধীদের ‘মহিলা বিরোধী’ বলেছেন তিনি। এবার মোদীর বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। টুইট করে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতার পাশাপাশি তিনি মনে করিয়ে দিলেন তৃণমূল মহিলাদের পাশেই রয়েছে। বোঝালেন অঙ্কও।
‘বিভ্রান্ত’ করছেন মোদী
এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, “এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে প্রধানমন্ত্রী সততার সঙ্গে বিষয়টির সমাধান না করে বিভ্রান্ত করার পথ বেছে নিয়েছেন। আমি এটা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, তৃণমূল কংগ্রেস সবসময় নারীদের জন্য রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের পক্ষে থেকেছে। সংসদ এবং রাজ্য বিধানসভা উভয় ক্ষেত্রেই আমাদের নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিদের অনুপাত সবথেকে বেশি।” সেই অঙ্কটাও বুঝিয়ে দেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন,”লোকসভায় আমাদের নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে ৩৭.৯ শতাংশ নারী। রাজ্যসভায় আমরা ৪৬ শতাংশ মহিলা সদস্যকে মনোনীত করেছি। নারী সংরক্ষণের বিরোধিতা করার প্রশ্নই ওঠে না এবং কখনও ওঠেওনি।”
মোদীর ভাষণ ‘ভণ্ডামি’
গতকাল মোদীর জাতির উদ্দেশে ভাষণকে ‘ভণ্ডামি’ বলেছেন মমতা। লেখেন, “গতকাল আপনি যা করেছেন তা ছিল কাপুরুষোচিত, ভণ্ডামি। আপনি অনুভব করতে পারছেন যে ক্ষমতা আপনার হাত থেকে ফসকে যাচ্ছে। আর আর তা আঁকড়ে ধরে রাখতে আপনি যেকোনও পর্যায়ে যেতে প্রস্তুত।”
কেন মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা?
মূলত, কোন বিষয়ে তৃণমূল বিরোধিতা করেছে, তাও তুলে ধরেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁরা মৌলিকভাবে ডিলিমিটেশন নিয়ে বিরোধিতা করেছেন। বিজেপিকে আক্রমণ করে লেখেন, “মোদী সরকার তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য নারীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ডিলিমিটেশন বিল কার্যকর করার ষড়যন্ত্র করছিল। আমরা তার বিরোধিতা করেছি।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও অভিযোগ, বিজেপি চাইছে মহিলাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আসন পুনর্বিন্যাস এনে রাজনৈতিক রূপরেখা নতুন করে এঁকে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোকে অধিক প্রতিনিধিত্ব দেওয়া হচ্ছে। যা তৃণমূল হতে দেবে না। স্পষ্ট করে দিয়েছেন মমতা।
মুখ্যমন্ত্রীর আরও প্রশ্ন, “এই সরকারে যদি মহৎ উদ্দেশ্য থাকত, তাহলে ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর নারী সংরক্ষণ বিল পাস হওয়ার পর প্রায় তিন বছর অপেক্ষা করল কেন? যখন বেশ কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচন চলছে, তখন কেন এটি তড়িঘড়ি করে পাশ করানো হল? আর এর সঙ্গে সীমানা পুনর্নির্ধারণই বা কেন যুক্ত করা হল? তৃণমূল কংগ্রেস কয়েক দশক ধরে নারীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা তা চালিয়ে যাব।”