
কলকাতা: বিধানসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হল OBC সংক্রান্ত জোড়া সংশোধনী বিল। আজ বিধানসভায় বিল দু’টি পেশ করেন অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। বিল দু’টি হল পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন (সংশোধনী) বিল, ২০২৬। আরেকটা হল পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি (তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি ব্যতীত) (সরকারি চাকরি ও পদে সংরক্ষণ) (সংশোধনী) বিল, ২০২৬। বিল নিয়ে আলোচনার সময় পূর্বতন সরকারে তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর।
বিগত তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, “তোষণের জন্যই তৃণমূল জমানায় সংরক্ষণ বাড়ানো হয়। সংখ্যালঘুদের প্রকৃত উন্নয়ন সংক্রান্ত ভাবনা ছিল না বিলে। আগের সরকার বিল নিয়ে কোনও আলোচনা করেনি। সামাজিক সমীক্ষা না করেই বিলে সংশোধনী এনেছিল তৃণমূল সরকার। অনগ্রসর শ্রেণী যাতে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যেই বিল আনা হয়েছে।”
জবাবি ভাষণে মন্ত্রী আরও বলেন, “আগের সরকার অতিরিক্ত যে জাতি তালিকা ভুক্ত করেছিল, সেটা শুধু রাজনৈতিক লাভের জন্য করেছিল। কলকাতা হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিল, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতেই এই আইন। আগের সরকার ১১৩ জাতিকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। শুধুমাত্র রাজনীতির জন্য কমিশন মনে করলে তারা সুপারিশ করতে পারবে। সেই অনুসারে পদক্ষেপ করা হবে। যাঁরা বলছেন একটি সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হচ্ছে, যখন নিয়ম না মেনে একটি সম্প্রদায়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল? তখন বলেননি কেন?হাইকোর্টের সিদ্ধান্তকে মান্যতা দিয়ে এই বিল এনেছি।”
এদিন বিলের পক্ষে ভাষণ দিতে গিয়ে বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী বলেন, “সময় মাত্র ১৩ মিনিট। কিন্তু ১৪ বছরের যুদ্ধের ইতিহাস। বুদ্ধিজীবী সুলভ মিথ্যাচারের দুর্দান্ত উদাহরণ হতে পারে আইনজগতের ও সংসদের সামনে। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিরও কালো অধ্যায়, যাঁর বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী লড়াই শুরু করেছেন।” ওবিসি চিহ্নিতকরণের ইতিহাস উল্লেখ করে বিধায়ক বলেন, ” সুপ্রিম কোর্ট প্রত্যেকটা রাজ্যে অনগ্রসর শ্রেণির চিহ্নিত করার জন্য ট্রাইব্যুনাল বা কমিশন গঠনের নির্দেশ দেন। নির্দেশ অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালে পশ্চিমবঙ্গে গঠিত হয় ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস। এই কমিশন গঠিত হওয়ার পর ১৯৯৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে মোট ৬৬টি জনগোষ্ঠীকে ওবিসি তালিকাভুক্তর যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যার মধ্যে ৫৪টি জনগোষ্ঠী হিন্দু ও ১২টি মুসলিম।”
বাম সরকারের আমলে ওবিসি সংরক্ষণের তথ্যকে তুলে ধরে অরিজিৎ বলেন, “২০১১ বিধানসভা নির্বাচন হয়। ঠিক তার আগে, ২০১০ সালে ৮ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ঘোষণা করেন, সরকারি চাকরিতে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ১০ শতাংশ সংরক্ষণের সুবিধা দেবে। এটা হওয়ার পর আচমকা দেখা যায়, যে কমিশন মাত্র ৬৬টি জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করতে পেরেছিল, সেই কমিশন ৮ মার্চ ২০১০ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১০ পর্যন্ত আরও ৪২টি জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে। কী পদ্ধতিতে হল, তা নিয়ে বিস্ময়ের অবকাশ রয়েছে। সবথেকে বড় প্রশ্ন হল, কোন জাদুবলে ৪২টার মধ্যে ৪১টি মুসলিম, মাত্র একটি হিন্দু জনগোষ্ঠী ওবিসি তালিকাভুক্ত করার যোগ্যতা অর্জন করল?”
বিধানসভায় এই বিলের বিরোধিতা করেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর মতে, “এই বিল পাশ হলে জাতিগত বৈষম্য বাড়বে। রঙ্গনাথ কমিশনের সুপারিশ মেনে সংরক্ষণ দেওয়া হোক। বিল পাশ হলে উচ্চশিক্ষায় বঞ্চিত হবেন মুসলিমরা। সামাজিক ন্যায়বিচারের কাঠামো ধ্বংস হবে।”