
অবশেষে কর্মী সঙ্কট কাটতে চলেছে দমকলের। পুজোর মুখেই নিয়োগের ঘোষণা করলেন দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। পুজোর আগেই প্রায় আড়াই হাজার দমকলকর্মী হাতে পাচ্ছে দফতর। দ্রুত শুরু হচ্ছে নিয়োগ প্রক্রিয়া।
দুর্গাপুজোয় অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রস্তুতি শুরু করেছে দমকল। রাজ্য জুড়ে পুজোর সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। কলকাতায় পুজোর আবেদন জমা পড়েছে ৯৮৬টি। তার জন্য মণ্ডপে মণ্ডপে আজ থেকে দমকলের আধিকারিকরা পরিদর্শন শুরু করেছেন। পুজোর মরশুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত ছুটি বাতিল করা হল দমকলকর্মীদের। একবার নয়, নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক দফায় পরিদর্শন করা হবে।
পুজো মণ্ডপে প্রবেশ ও বেরোনোর দরজা কতগুলি রয়েছে, দর্শণার্থীদের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা দেখা হবে। প্যান্ডেলে ব্যবহৃত উপকরণ, বিশেষ করে কাপড় ও অন্যান্য দাহ্য সামগ্রী কী ধরনের, তা পরীক্ষা করা হবে।
ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ড বা জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিকভাবে কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে, সেই বিষয়ে পুজো উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। দমকল কর্তারা জানিয়েছেন, উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষিত করা হলে ছোট ঘটনা বড় আকার নেওয়ার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
কলকাতার পাশাপাশি জেলার বড় পুজো, যেগুলিতে বেশি ভিড় হতে পারে, এলাকাগুলিতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হবে। পুজোর আগে কলকাতার শপিং মল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলিতেও বিশেষ ফায়ার-সেফটি অডিটও চলছে।
প্রায় ২৫০টি নতুন ফায়ার সার্ভিস ভেহিকেল নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ও আকারের গাড়ি থাকবে। ছোট গাড়ি কনজেস্টেড এলাকা ও সরু রাস্তায় এবং বড় গাড়ি প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য এলাকায় ব্যবহার করা হবে। নতুন গাড়িগুলি প্রতিটি জেলায় এবং কলকাতার বিভিন্ন ফায়ার স্টেশনে মোতায়েন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, দমকল দফতরের প্রায় ২,৫০০টি স্থায়ী পদে নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। পুজোর আগে বা যত দ্রুত সম্ভব নতুন কর্মীদের কাজে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। নতুন গাড়ি চালানোর জন্য প্রায় ৩৫০ জন ড্রাইভার নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। ভিড় সামলানোর জন্য যেমন স্বেচ্ছাসেবক থাকে, তেমনই শুধু অগ্নিনিরাপত্তার জন্য ভলান্টিয়ার রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।