
কলকাতা: সোনারপুরে আক্রান্ত হওয়ার পরই তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের। অভিষেককে এবার থেকে এক্স ক্যাটেগরির নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের সঙ্গে তিনজন নিরাপত্তারক্ষী সবসময় থাকবেন। বর্তমানে ২ জন নিরাপত্তারক্ষী থাকেন অভিষেকের সঙ্গে।
তৃণমূলের আমলে অভিষেকের নিরাপত্তার বহর নিয়ে প্রশ্ন-
তিনি একজন সাংসদ। তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড। রাজ্যে তৃণমূলের আমলে অভিষেক পেতেন জেড প্লাস নিরাপত্তা। বিভিন্ন জেলা সফরে তাঁর কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন উঠেছে। একজন সাংসদ হয়ে তাঁর নিরাপত্তায় পুলিশের সংখ্যা নিয়ে বিরোধীরা বারবার প্রশ্ন তুলেছে।
রাজ্যে পালাবদলের পরই অভিষেকের জেড প্লাস নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণের পর শুভেন্দু অধিকারী সাংসদ-সহ বিভিন্ন ব্যক্তির নিরাপত্তা নিয়ে পর্যালোচনার জন্য পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। তারপরই অভিষেকের জেড প্লাস নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়। তাঁর হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ির সামনে থেকে পুলিশের নিরাপত্তা সরানো হয়। সেইসময় জানানো হয়, একজন সাংসদ হিসেবে যতটুকু নিরাপত্তার দরকার, তাই পাবেন অভিষেক।
সেইমতো এখন ২ জন নিরাপত্তারক্ষী অভিষেকের সঙ্গে থাকেন। এদিন তিনি সোনারপুরে যাওয়ার সময় ২ জন নিরাপত্তারক্ষীই ছিলেন। সোনারপুরে মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আক্রান্ত হন অভিষেক। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, সোনারপুরে অভিষেকের মৃত্যুও হতে পারত। তিনি বলেন, “মানুষের আশীর্বাদে ও আজকে বেঁচেছে। স্থানীয় ছেলেরা যদি হেলমেট না দিত, যেভাবে পাথর ছোড়া হয়েছিল, ঘটনাস্থলেই মারা যেত পারত।”
বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “অভিষেকের নিরাপত্তা কমানোর সুযোগ নিয়ে আজকের হামলা হয়েছে। একসময় রাজীব গান্ধীর সরকার চলে যাওয়ার পর তাঁর নিরাপত্তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তারপর মানববোমায় উড়িয়ে দেওয়া হয় রাজীব গান্ধীকে। আমাদের কাছে এই নির্দশন তো রয়েছে। তাই কোনও আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।” অভিষেকের উপর হামলা নিয়ে এই শোরগোলের মধ্যে তাঁকে এক্স ক্যাটেগরির নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য।