
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থার এক চরম উদ্বেগজনক চিত্র! এক বছরের ব্যবধানে রাজ্য থেকে প্রায় ১ হাজার সরকারি স্কুল কার্যত গায়েব হয়ে গিয়েছে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে যেখানে রাজ্যে সরকারি স্কুলের সংখ্যা ছিল ৯৩ হাজার ৭১৫টি, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে পড়ুয়াযুক্ত সরকারি স্কুলের সেই সংখ্যাটি কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯২ হাজার ৮০০-তে। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরেই ৯১৫টি সরকারি স্কুল বন্ধ হয়েছে।
শুধু স্কুল কমে যাওয়াই নয়, শিক্ষা পরিকাঠামোর কঙ্কালসার রূপটি আরও স্পষ্ট হয়েছে শিক্ষক সঙ্কটে। বর্তমানে রাজ্যের প্রায় ১৯ হাজার সরকারি স্কুল চলছে মাত্র এক জন শিক্ষক দিয়ে। এর ওপর গত এক বছরে প্রায় ২ হাজার শিক্ষক অবসর গ্রহণ করলেও নতুন করে কোনও শিক্ষক নিয়োগ করা হয়নি। ফলে, শূন্যপদ পূরণ না হওয়ায় শিক্ষক সংখ্যা বাড়ার বদলে উল্টে কমেছে।
পর্যাপ্ত শিক্ষক ও সুষ্ঠু পরিকাঠামোর অভাবে সরকারি বিদ্যালয়গুলির পঠনপাঠনের মান তলানিতে ঠেকেছে। ফলস্বরূপ, সাধারণ ও নিম্নবিত্ত পরিবারের পড়ুয়াদের মধ্যেও এখন সরকারি স্কুল ছেড়ে বেসরকারি স্কুলের প্রতি ঝোঁক মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার এই সামগ্রিক বিপর্যয় বলেই মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। তাঁদের একাংশের মতে, ২০১৫ থেকেই দেখা পড়ুয়ার অভাবে বিভিন্ন সরকার পোষিত স্কুলে পাকাপাকি ভাবে তালা পড়েছে। বাদ যায়নি খাস কলকাতাও।
গ্রামের দিকের স্কুলভবনগুলোর পরিকাঠামো, মিড ডে মিল রান্নায় জায়গা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন বহুবার উঠেছে। কিন্তু সর্বোপরি শিক্ষাবিদদের কাছে যেটা সবথেকে বেশি চিন্তার, তা হল শিক্ষক সঙ্কট। আন্দোলনকারী শিক্ষক চিন্ময় মণ্ডল বলেন, “তৃণমূলের আমলে যেভাবে দুর্নীতি হয়েছে, তাতে তো ঠিক মতো শিক্ষকই নিয়োগ হয়নি। এই পরিসংখ্যান সত্যিই উদ্বেগের। শিক্ষার দুর্দশা সামনে আসছে। বিগত সরকার বিভিন্ন পরিসংখ্যান মিথ্যা দিয়ে গিয়েছে। কিন্ত ভিতরেই ঘুন ধরেছে।”
প্রধান শিক্ষক সংগঠনের নেতা চন্দন মাইতি বলেন, “এই যে হাজার হাজার স্কুল বন্ধ হচ্ছে, কোথাও এক জন শিক্ষক, দুজন শিক্ষক। কিন্তু আরও উদ্বেগের বিষয় হল, সেনসাসের জন্য শিক্ষকদেরও দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাহলে স্কুলে পড়াবে কে? স্কুল বাঁচানোর জন্য শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী নিয়োগের আবেদন জানাচ্ছি।”