
কলকাতা: রাজ্যজুড়ে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এবং আবর্জনা মুক্ত পরিবেশ গড়তে একাধিক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। শুক্রবার বিধানসভায় পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, প্রতিটি বাড়ি থেকে আবর্জনা সংগ্রহ এবং রাস্তায় ময়লা ফেলা পুরোপুরি বন্ধ করাই মূল লক্ষ্য। বর্জ্য সংগ্রহের নজরদারিতে গাড়িতে লাগানো হচ্ছে জিপিএস। আগামী ৩১শে জুলাইয়ের মধ্যে সমগ্র রাজ্যে চালু হতে চলেছে আধুনিক ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’।
গৃহস্থের বাড়িতে কী পরিবর্তন?
রাজ্যের একাধিক জায়গায় জল নিয়ে সমস্যা রয়েছে। বিশেষত প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে। জল সংরক্ষণের জন্যও রাজ্য সরকার নতুন চিন্তাভাবনা করছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে আগামী পরিকল্পনা হিসাবে তিনি জানান, প্রতিটি বাড়ির ছাদে বাধ্যতামূলক হচ্ছে বৃষ্টির জল ধরে রাখার ব্যবস্থা। যা জামাকাপড় কাচা ও বাথরুমে ব্যবহারের উপযোগী করা হবে। এবার থেকে রাজ্যের প্রতিটি বাড়ির ছাদে এভাবে জল সংরক্ষণের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার কথা ভেবেছে রাজ্য সরকার। এর মধ্যে বাজার-সহ একাধিক ক্ষেত্রে একাধিক বদল আনা হয়েছে। গৃহস্থের বাড়ির ক্ষেত্রেও নতুন পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ও তা পুনর্ব্যবহারের যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন পরিবেশবিদরাও। তবে কীভাবে কোন প্রক্রিয়ায় ছাদে জল সংরক্ষিত হবে, তা নিয়ে এখনও কোনও সুস্পষ্ট রূপরেখা তৈরি হয়নি। তার ওপর কাজ করা হচ্ছে।
পাশাপাশি, পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে ইউআইডিএফ (UIDF)-এর ফান্ড ব্যবহার করে কলকাতা সংলগ্ন এলাকায় দ্রুত গড়ে তোলা হবে এক আধুনিক ‘রিং রোড’।
‘কচুরিপানা থেকে শিল্প’
অগ্নিমিত্রা জানান, পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে নেওয়া হয়েছে অভিনব উদ্যোগ। বাজার ও মন্দিরের ব্যবহৃত ফুল থেকে তৈরি হবে ধূপকাঠি ও আবীর। পুকুর থেকে ৫০ শতাংশ কচুরিপানা তুলে তা হস্তশিল্পের কাজে ব্যবহার করা হবে। প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে বসানো হচ্ছে ‘বোটল ক্রাশার’—যেখানে ব্যবহৃত প্লাস্টিক বোতল জমা দিলে মিলবে বিনামূল্যে ব্যাগ। এসব বর্জ্য প্লাস্টিক ব্যবহৃত হবে বস্ত্রশিল্প ও রাস্তা তৈরিতে।
পরিবেশ দূষণ রুখতে আগামী ১লা সেপ্টেম্বর থেকে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চলেছে সরকার। প্রকাশ্যে থুতু ফেলা বা প্রস্রাব করার ওপর জারি হচ্ছে কঠোর জরিমানা।