
কলকাতা: বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) বিলে কী কী থাকবে? বাড়ছে জল্পনা। সোমবার বিধানসভায় UCC বিলটি পেশ করার কথা ছিল। তবে এদিন তা পেশ হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাপটে ইউসিসি বিলের রূপরেখা তৈরির জন্য কমিটি গড়ছে সরকার। এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, উত্তরাখণ্ড, অসম ও গুজরাটের অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিলকে ভিত্তি করেই বাংলায় UCC বিল আনা হবে। অভিন্ন দেওয়ানি বিলে লিভ-ইন সম্পর্ক নিয়ে কী প্রস্তাব থাকছে, তা নিয়েও জল্পনা বাড়ছে।
বিজেপি ক্ষমতায় এলেই বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) চালু হবে। বিধানসভা ভোটের প্রচারে অমিত শাহ-সহ বিজেপি নেতারা বারবার একথা বলেছেন। আর ক্ষমতায় এসেই বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল আনতে তৎপর হয় শুভেন্দু-সরকার। বিজেপি শাসিত তিন রাজ্যে এখনও পর্যন্ত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হয়েছে। প্রথমে উত্তরাখণ্ড। তারপর গুজরাট ও অসম। অভিন্ন দেওয়ানি বিধির অর্থ হল, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য এক আইন।
উত্তরাখণ্ডে UCC-তে লিভ-ইন সম্পর্কে রেজিস্ট্রেশন বাধ্য়তামূলক-
আধুনিক সমাজে লিভ-ইন সম্পর্ক বাড়ছে। আর সেই লিভ-ইন সম্পর্ককেও আইনের বাঁধনে বাঁধা হয়েছে উত্তরাখণ্ডে। ২০২৪ সালে বিজেপি শাসিত উত্তরাখণ্ডে চালু হয় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। সেখানে বলা হয়, বিয়ের মতো লিভ-ইনেও রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। লিভ-ইনের রেজিস্ট্রেশন করা না হলে তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড ও জরিমানার শাস্তি রয়েছে ওই বিধিতে।
এদিন শুভেন্দু বিধানসভায় বলেছেন, উত্তরাখণ্ড, অসম ও গুজরাটের অভিন্ন দেওয়ানি বিধিকে ভিত্তি করে তাঁরা এগোবেন। অর্থাৎ উত্তরাখণ্ডের মতো লিভ-ইনেও রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। বিভিন্ন মহলের মতে, মেয়েদের সামাজিক সুরক্ষার জন্যই এই পদক্ষেপ করতে পারে সরকার।
কয়েকমাস আগে মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি এস শ্রীমাথি বলেছিলেন, “নিজেদের আধুনিক মনে করে মেয়েরা লিভ-ইন সম্পর্কে জড়াচ্ছেন। কিন্তু, পরে তাঁরা অনুভব করেন, এই সম্পর্কে নিরাপত্তার কোনও গ্য়ারান্টি নেই। যা বিয়ের মধ্যে রয়েছে। এই বাস্তবতা আগুনের মতো ছড়ায় এবং তাঁদেরই পোড়ায়।”
মাদ্রাজ হাইকোর্ট আরও বলেছিল, এই আধুনিক সংস্কৃতিতে যাঁরা জড়িয়ে পড়ছেন, সেই সব মহিলাদের সুরক্ষা দেওয়া দরকার। সেজন্য লিভ-ইন সম্পর্ককে গান্ধর্ব বিবাহের (লাভ ম্যারেজ) মতো স্বীকৃত দেওয়া দরকার। ফলে যেসব মহিলা লিভ-ইন সম্পর্কে থাকবেন, গান্ধর্ব বিবাহ মতে তাঁরা স্ত্রীর মর্যাদা পাবেন। প্রসঙ্গত, গান্ধর্ব বিবাহ মূলত বর ও কনের পারস্পরিক প্রেম ও সম্মতির ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়। এখানে কোনও আচার-অনুষ্ঠান কিংবা অভিভাবকের অনুমোদন লাগে না।
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল নিয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা চাই, ইউসিসি কার্যকর হোক। দ্রুত কার্যকর হোক। এবং সর্বসম্মতিক্রমে কার্যকর হোক। কারণ, ইউসিসি-র দাবি শুধু বিজেপির নয়। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ, এমনকি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু মানুষ ইউসিসি-র জন্য লড়াই করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি থেকে শুরু করে সমাজের একজন স্কুলশিক্ষক পর্যন্ত ইউসিসি-র পক্ষে রয়েছেন। যেটা মানুষ চাইছেন, জনমনে যে দাবি প্রতিষ্ঠিত, সেটাকে মর্যাদা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের।”