‘বাংলার ইতিহাস আপনিই লিখবেন’, TV9 বাংলার মেগা কনক্লেভে মুখ্যমন্ত্রীকে বললেন MD-CEO বরুণ দাস

TV9 Bangla Mega Conclave: টিভি৯ নেটওয়ার্কের ম্যানেজিং ডিরেক্টর-সিইও বরুণ দাস বলেন, "যে সময়টার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, সেটা একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসের নতুন একটা অধ্যায় লেখা হচ্ছে। ইতিহাস লেখা হয়নি, কিন্তু কলম কাগজ ছুঁয়েছে। এর আগেও বাংলা এমন একটা সঙ্কটময় মুহূর্ত দিয়ে গিয়েছে। সেটা অবশ্য ছিল অবিভক্ত বাংলা, উনিশ শতক।"

বাংলার ইতিহাস আপনিই লিখবেন, TV9 বাংলার মেগা কনক্লেভে মুখ্যমন্ত্রীকে বললেন MD-CEO বরুণ দাস
TV9 নেটওয়ার্কের MD-CEO বরুণ দাস।Image Credit source: TV9 বাংলা

|

Aug 27, 2026 | 2:08 PM

কলকাতা: রাজ বদলের ১০০ দিন। কোন পথে এগোচ্ছে বাংলা, রাজ্যের ভবিষ্যৎ কী? -সেই নিয়ে আলোচনার জন্য মেগা কনক্লেভের আয়োজন টিভি৯ বাংলার। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত রয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এছাড়াও রাজ্যের প্রায় সকল মন্ত্রীরাই উপস্থিত রয়েছেন। মেগা কনক্লেভের শুরুতেই বক্তব্য রাখেন টিভি৯ নেটওয়ার্কের ম্যানেজিং ডিরেক্টর-সিইও বরুণ দাস।

এ দিন বক্তব্য রাখতে উঠেই টিভি৯ নেটওয়ার্কের ম্যানেজিং ডিরেক্টর-সিইও বরুণ দাস মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও উপস্থিত সকল অতিথিদের টিভি৯ বাংলার তরফে স্বাগত জানান। মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান ব্যস্ত সময়ের মধ্যে থেকে সময় বের করে আসার জন্য। সরকারের একশো দিন পূর্তি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমার ব্যক্তিগত মতামত হল, কোনও সরকারের ১০০ দিনের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আলোচনা করতে আসিনি। আমার মনে হয়, যে সময়টার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, সেটা একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসের নতুন একটা অধ্যায় লেখা হচ্ছে। ইতিহাস লেখা হয়নি, কিন্তু কলম কাগজ ছুঁয়েছে। এর আগেও বাংলা এমন একটা সঙ্কটময় মুহূর্ত দিয়ে গিয়েছে। সেটা অবশ্য ছিল অবিভক্ত বাংলা, উনিশ শতক। পরাধীন সমাজে বাল্য বিবাহ, সতীদাহ, একদিকে কুসংস্কার, অন্যদিকে আধুনিক শিক্ষা ও বিজ্ঞান নতুন জানালা খুলে দিচ্ছে। এরকমই একটা টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছিল বাংলার নবজাগরণ। রামমোহন আমাদের কুসংস্কারকে প্রশ্ন ও প্রত্যাখান করতে শেখালেন। সতীদাহের বিরুদ্ধে লড়লেন। বিদ্যাসাগর শেখালেন, সমাজের আগে কিন্তু মানুষ। নারী শিক্ষা ও বিধবা বিবাহের জন্য সমাজের সঙ্গে লড়লেন। এর পর বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জগদীশ চন্দ্র বসু, প্রফুল্ল চন্দ্র রায় সাহিত্য থেকে বিজ্ঞান- বাংলা শুধু নিজে বদলায়নি, গোটা ভারতকে পথ দেখিয়েছিল। কিন্তু আজকের পশ্চিমবঙ্গের চ্যালেঞ্জটা আরও বড়। কারণ পৃথিবী অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে। আর বাংলা বোধ হয় দিনের পর দিন পিছিয়ে পড়ছে।”

তিনি আরও বলেন, “১৯৬১ সালে বাংলা থেকে দেশের জিডিপি-তে কন্ট্রিবিউশন ছিল সাড়ে ১০ শতাংশ। ২০২৩-২৪-এ তা নেমে দাঁড়িয়েছে সাড়ে পাঁচ শতাংশের মতো। যদি পার ক্যাপিটা আয় ধরেন, তাহলে বাংলার অনুদান বাকিদের থেকে ৩০ শতাংশ বেশি ছিল। ২০২৩-২৪ সালে সেটা ১৫ শতাংশের নীচে এসে গিয়েছে। আমাদের প্রায় ৭ শতাংশ জনসংখ্যা, কিন্তু ২০২৪ সালে বাংলায় বিদেশি বিনিয়োগ ছিল মাত্র ০.৪ শতাংশ। উচ্চশিক্ষায় ভর্তির গড়ের হিসাব যদি করা হয়, তবে জাতীয় স্তরে অবদান ছিল ২৭ শতাংশ আর বাংলার গড় ছিল ২১ শতাংশ। এরকম অনেক তথ্য আছে।”

বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার আগে অতীতের কথা তুলে MD-CEO বরুণ দাস বলেন, “গত দেড় দশকে বাংলা সবথেকে খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। বিনিয়োগ, শিল্প, স্বাস্থ্যক্ষেত্র, শিক্ষা, প্রশাসনিক এবং সর্বোপরি প্রশাসনের উপরে মানুষের ভরসা, প্রতিটি জায়গায় সমস্যা জমতে জমতে পাহাড় প্রমাণ হয়েছে। অথচ পশ্চিমবঙ্গে ট্য়ালেন্টের অভাব ছিল না। সংস্কৃতির অভাব ছিল না। আমাদের ভৌগলিক সুবিধা কিন্তু বদলায়নি। কিন্তু বদলেছিল গভর্নেন্স। দুর্নীতি আর অরাজকতা পশ্চিমবঙ্গকে অধঃপতনের শেষ ধাপে নিয়ে গিয়েছে। এটা কোনও ব্যক্তিবিশেষের মতামত নয়, ২০২৬ সালের জনাদেশ ২০৮টি সিটে জয় এই জনাদেশকেই পরিষ্কার করে দেয়।”

তিনি আরও বলেন, “কর্পোরেট জগতে এই ধরনের পরিস্থিতিতে টার্ন অ্যারাউন্ড পরিস্থিতি বলা হয়। কোম্পানি যখন লস করে, ভালো লোকেরা ছেড়ে চলে যাচ্ছে, এই সময়ে কোম্পানিকে হয় ঘুরে দাঁড়াতে হবে, নাহলে কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাবে। এই সময়ে কোম্পানি একজন ভালো সিইও-কে খোঁজে, সে এসে প্রসেস বদলায়, সমস্ত নিম্নমুখী গ্রাফকে উর্ধ্বমুখী করার চেষ্টা করে। পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা অনেকটা সেরকম। একটা কর্পোরেট কোম্পানি বন্ধ হলে কিছু মানুষ চাকরি হারান, কিন্তু দেশকে তো বন্ধ করা যায় না। দেশ যদি না ঘুরে দাঁড়ায়, তবে অর্থনীতি থেকে শুরু করে সমস্ত ক্ষেত্রে দুর্ভোগ, হতাশা বাড়তে থাকে। এখন পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিয়ানাই অস্তিত্ব সঙ্কটের মুখে। তাই শুভেন্দুবাবু আপনিই বাংলার শেষ আশা, শেষ ভরসা। আজ পশ্চিমবঙ্গ আপনার দিকে তাকিয়ে আছে এক নবজাগরণের নতুন অধ্যায় লেখার জন্য। আমি জানি, আপনি আমি কথাটা পছন্দ করেন না, টিম ওয়ার্কে বিশ্বাস করেন। তবে আমরা এটাও জানি, টিম ইজ অ্যাজ গুড অ্যাজ দ্য লিডার। দ্য লিডার লিডস, দেন দ্য টিম ক্যান বিল্ড। আমরা সবাই জানি, আপনি ইতিহাস লিখবেনই। ইতিহাসের প্রথম অধ্যায়ে যে গতি, ডেডিকেশন আপনি দেখিয়েছেন, তাতে বাঙালির আশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন।”

সরকারের ১০০ দিন পূর্তি প্রসঙ্গে টিভি৯ নেটওয়ার্কের এমডি-সিইও বলেন, “১০০ দিনের প্রাসঙ্গিকতা শুরু হয়েছিল ১৯৩৩-তে, যখন রুসভেল্ট আমেরিকার ক্ষমতায় আসেন। বেকারত্ব ২৫ শতাংশ ছিল, ব্যাঙ্কিং সিস্টেম ভেঙে পড়ছিল। তিনি ক্ষমতায় এসে কংগ্রেসের বিশেষ অধিবেশন ডাকেন। সেই অধিবেশন ১০০ দিন চলেছিল, ৯ মার্চ থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত। ওই সময়ে ১৫টি ল্যান্ডমার্ক আইন উনি তৈরি করেছিলেন। ১৬টা বড় কাজ হয়েছিল। ১০০ দিনে ডিপ্রেশন শেষ হয়নি, কিন্তু আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে। দেশ আবার চলতে শুরু করে। ১০০ দিনের তাৎপর্য সেখানেই। পশ্চিমবঙ্গ ও আমেরিকার সঙ্কটটা আলাদা, কিন্তু ঘুরে দাঁড়ানোর প্রয়োজন আছে। আপনি ১০০ দিনে যে বিদ্যুতের গতিতে কাজ করেছেন, তাতে এফডিআর-কে পিছনে ফেলে দিয়েছেন। আপনি সমস্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ করকে বদ্ধপরিকর। আপনার সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল সুশাসনের ৬টি স্তম্ভ- সুরক্ষা, সেবা, স্বাস্থ্য, শিল্প, সীমান্ত ও সুশাসন। প্রথম ১০০ দিনে আইনশৃঙ্খলা, নারী সুরক্ষা, নতুন ক্রিমিনাল আইন, বিএসএফ-কে জমি দেওয়া-সব দিকে আপনি যে কাজ করেছেন, তা প্রশংসনীয়। সর্বোপরি, আজকে শুভেন্দু অধিকারী দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবথেকে বড় লড়াই করছেন। দায়িত্ব নিয়ে কোনও মুখ্যমন্ত্রী এভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছেন বলে আমার তো মনে হয় না। তাই বাংলার নবজাগরণের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়ার আশা প্রকাশ করছি। তবে আমি মনে করি, শুধু স্বপ্ন দেখলেই হয় না, এই কাজ শুধু মুখ্যমন্ত্রীর নয়, পশ্চিমবঙ্গের সকল মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। মাইন্ডসেটের পরিবর্তনের দরকার আছে। We Can’t থেকে Can We, এবং সেখান থেকে We Can এবং তারপরে We Will। এই দায়িত্ব প্রতি বাঙালির। আমার মনে হয়, বাঙালি উচ্চাশা ও লোভের মধ্যে গুলিয়ে ফেলেছিল। উচ্চাশা আবার জাগাতে হবে। উচ্চশিক্ষার পর কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। চাকরি খোঁজা নয়, কেন বাঙালিরা চাকরি দেওয়ার লোক হবে না? সংস্কৃতি শুধু সেলিব্রেশন হলে হবে না, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি ও সফট পাওয়ারে কনভার্ট করতে হবে। এককথায় বাঙালির গর্ব সমৃদ্ধিতে পরিণত করতে হবে।”

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us