
কলকাতা: নতুন সরকার গঠন হতেই নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’। রাজনীতি থেকে বিচারব্যবস্থার পরিসরে আলোচনা প্রচুর। কিন্তু সেই সংস্থা কী করে? কিসের ব্যবসা তাদের? কোথায় কারখানা?
এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একটা সময়ে তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস নিয়ে মুখ খুলেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ২০০৯ সালে ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’ তৈরি করেছিলেন। প্রথমে এই কোম্পানিতে পার্টনারশিপ ছিল। ২০১২ সালে এই সংস্থাটিকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি করা হয়েছিল। যার অন্যতম ডিরেক্টর ছিলেন অভিষেক।
ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ সে সময়ে দাবি করেছিলেন, ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’ কনসালটেন্সি সার্ভিস, শেয়ার ট্রেডিং, ব্র্যান্ডিংয়ের কাজ করত। তবে বর্তমানে ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস মিনারেল ওয়াটার উৎপাদন করে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাখরাহাটে সেই জল প্যাকেজিংয়ের কারখানা রয়েছে। অভিষেকের দাবি, বাখরাহাটে এই কারখানার জমি কেনা হয়েছিল ২০০১-২০০২ সালে।
সূত্র বলছে, ২০১৪ সালে তিনি লোকসভা ভোটে যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তখন তিনি ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর ডিরেক্টর পদ থেকে ইস্তফা দেন। তখন তাঁর বাবা, মা এবং স্ত্রী ওই সংস্থার ডিরেক্টর পদে থাকেন। অভিষেক তখন এই সংস্থার সিইও।
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরনোর মতোই উঠে আসে এই কোম্পানির নাম। কেন্দ্রীয় এজেন্সির নজরে পড়ে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’। একাধিকবার তল্লাশি চলে, একাধিক পেপার, নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়। তখন ওই সংস্থার প্রধান কর্মী ছিলেন সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র। যিনি ‘কালীঘাটের কাকু’ নামে পরিচিত। ‘কালীঘাটের কাকু’কে গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তারপর তাঁর গলার স্বরের নমুনা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা।