President of India: রাষ্ট্রপতিকে কারা যেতে পারেন ‘রিসিভ’ করতে? কী বলছে নিয়ম?

President Draupadi Murmu: বিতর্কের মধ্যে শনিবারই শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব স্পষ্ট বলেন, রাজ্যের তরফে আমি রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানিয়েছি। জেলার ডিএম এবং পুলিশ কমিশনার ছিলেন। শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র তথা সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য কিন্তু কাঠগড়ায় তুলছেন তৃণমূলকেই।

President of India: রাষ্ট্রপতিকে কারা যেতে পারেন ‘রিসিভ’ করতে? কী বলছে নিয়ম?
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুImage Credit source: TV 9 Bangla GFX

Mar 08, 2026 | 1:48 PM

কলকাতা: রাজ্য বনাম রাজ্যপাল, রাজ্য বনাম কমিশন, এবার ভোটের আগে তুঙ্গে রাজ্য-রাষ্ট্রপতি সংঘাত। শিলিগুড়ি মহকুমার গোঁসাইপুরে নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। কিন্তু বেনজিরভাবে রাজ্যের বিরুদ্ধে একাধিক ইস্যুতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তা নিয়ে চাপানউতোরের মধ্যেই পদক্ষেপের পথে হাঁটছে কেন্দ্র। আগেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে অসম্মানের অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সরাসরি রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন চিঠি লিখে কড়া বার্তা পাঠিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে।

কী নিয়ম? 

চিরাচরিত নিয়ম বলছে, যখনই কোনও রাজ্যে রাষ্ট্রপতি যান তখন সেই রাজ্যের রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁকে রিসিভ করতে যান। যদিও অনেকেই বলছেন এ ক্ষেত্রে লিখিত কোনও প্রোটোকল নেই। প্রথা বলছে, মুখ্যমন্ত্রী না গেলে সাধারণত প্রশাসনিক স্তরের শীর্ষ কর্তারা যান। যেতে পারেন মুখ্যসচিব, ডিজিপিও। কিন্তু শনিবার সেই ছবি দেখা যায়নি। যা নিয়েই যত বিতর্ক। 

কে কে ছিলেন?

রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে। তিনি তো বটেই রাজ্য়ের কোনও মন্ত্রীও আসেননি। দেখা যায়নি মুখ্যসচিব বা ডিজিপিকেও। এদিকে কয়েকদিন আগেই আবার রাজ্যপালের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সিভি আনন্দ বোস। তাঁর দায়িত্ব নিতে চলেছেন আরএন রবি। কিন্তু তিনি শপথ নিতে চলেছেন ১২ মার্চ। ফলে তাঁর থাকার প্রশ্ন ছিল না। কিন্তু ছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। তিনি যদিও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। এই মুহূর্তে মন্ত্রিসভার কোনও সদস্য নন। রাষ্ট্রপতি যদিও বলছেন, রাষ্ট্রপতি যখন কোনও রাজ্যে সফরে আসেন তখন তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রিসভারই কেউ স্বাগত জানান।

রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর 

বিতর্কের মধ্যে শনিবারই শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব স্পষ্ট বলেন, রাজ্যের তরফে আমি রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানিয়েছি। জেলার ডিএম এবং পুলিশ কমিশনার ছিলেন। শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র তথা সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য কিন্তু কাঠগড়ায় তুলছেন তৃণমূলকেই। তিনি বলছেন, “রাষ্ট্রপতি বাঙালি না অবাঙালি সেটা বড় কথা নয়। তিনি কার সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন সেটাও বড় কথা নয়। তাঁর চেয়ার পদাধিকার বলে কিছু সম্মান ডিজার্ভ করে। যে কোনও সরকারের সেই সৌজন্য দেখানো উচিত।”

খোঁচা দিতে ছাড়ছে না বিজেপিও। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলছেন, “রাষ্ট্রপতি কী বলছেন সেটা আমরা সবাই দেখেছি। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী বলছেন দুটোকে পাশাপাশি রাখুন, তাহলেই বুঝতে পারবেন কে দায়ী। বুঝতে পারবেন কে সংবিধানের এক্তিয়ারের মধ্যে বলেছে, আর কে সংবিধানের বাইরে গিয়ে বলেছে। 

কিন্তু কী বলছে রীতি? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? 

কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত বলছেন, “আমাদের রাজ্যের আগের রাজ্যপাল পদত্যাগ করেছেন। তারফলে সেই জায়গায় শূন্যতা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক দিক থেকে প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভবত কোনও মন্ত্রী থাকাটাই বাঞ্ছনীয়। রাষ্ট্রপতি দেশের সাংবিধানিক সর্বোচ্চ পদ। তিনি যখন বিদেশেও যান তখন নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনে তা সংবর্ধনা জানানো হয়।”