Kolkata Building Collapsed: প্রবল বৃষ্টিতে বড় বিপর্যয়, কলকাতায় ভেঙে পড়ল তিনতলা বাড়ির একাংশ! দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু ষাটোর্ধ্ব মহিলার

3-Storey building Collapsed in Kolkata: ৩১ নম্বর ব্রজদুলাল স্ট্রিট। সেখানেই রয়েছে ২০০ বছরের পুরনো তিনতলা বাড়িটি। অভিযোগ, দীর্ঘদিন আগে বাড়িটি পুরসভা থেকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পরেও ওই বাড়িতে ২০ জন থাকছিলেন। জানা গিয়েছে, ভোর চারটে নাগাদ হঠাৎ শব্দ শুনতে পান বাসিন্দারা।

Kolkata Building Collapsed: প্রবল বৃষ্টিতে বড় বিপর্যয়, কলকাতায় ভেঙে পড়ল তিনতলা বাড়ির একাংশ! দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু ষাটোর্ধ্ব মহিলার
ভেঙে পড়েছে বাড়িImage Credit source: Tv9 Bangla

| Edited By: শুভশ্রী রায়চৌধুরী

Aug 18, 2026 | 9:08 AM

কলকাতা: প্রবল বৃষ্টিতে সাতসকালে শহর কলকাতায় বিপর্যয়। ভেঙে পড়ল পুরনো পরিত্যক্ত তিন তলা বাড়ির (Kolkata Building Collapsed) একাংশ। জানা গিয়েছে, ওই বাড়িতে প্রায় ২০ জন থাকতেন। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, দেওয়াল চাপা পড়ে ইতিমধ্যেই এক মহিলার মৃত্যু (Woman Death) হয়েছে। মৃতার নাম ঊর্মিলা সাউ। জানা গিয়েছে, ভোরবেলা তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। তখনই ভেঙে পড়ে বাড়ির ওই অংশ। বাকি ১৯ জন আটকে পড়েন বলে খবর। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা NDRF। অনেককেই ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর। পাথুরিয়াঘাটার জোড়াবাগান ব্রজদুলাল স্ট্রিটের ঘটনা।

পুরসভার চিহ্নিত বিপজ্জনক বাড়ি

৩১ নম্বর ব্রজদুলাল স্ট্রিট। সেখানেই রয়েছে ২০০ বছরের পুরনো তিনতলা বাড়িটি। ছয় মাস আগেই বাড়িটির পিছনের অংশের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই বাড়িটির একাংশ কার্যত ঝুলে ছিল। কলকাতা পুরসভার তরফে বাড়িটি বিপজ্জনক এবং পরিত্যক্ত করার কথা বলা হলেও, বাস্তবে বাড়ি খালি করা সম্ভব হয়নি। কারণ বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটেদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিবাদ। সেই বিবাদ গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। অভিযোগ, নতুন মালিকরাও বাড়িটির একটি অংশে বসবাস করছিলেন। ফলে বিপজ্জনক বাড়ি খালি করার প্রশাসনিক উদ্যোগ কার্যত আটকে যায় বিবাদ এবং আইনি জটিলতায়।

ভোররাতে বিপত্তি

মঙ্গলবার ভোররাতে আচমকাই বিপত্তি। ভেঙে পড়ে তিলতলা বাড়ির একাংশ। মৃত্যু হয় ওই বাড়িরই এক মহিলার। মৃতার স্বামী জানিয়েছেন, বাড়ির ভিতর থেকে বিকট শব্দ শুনে বেরিয়ে আসেন উর্মিলা সাউ। আর সেই মুহূর্তেই হুড়মুড়িয়ে তাঁর উপর ভেঙে পড়ে বাড়ির একাংশ। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে মৃত্যু হয় ষাটোর্ধ্ব মহিলার।

প্রতিবেশীদের দাবি, বাড়িটিতে প্রায় ২০ জন সদস্য থাকতেন। গ্রাউন্ড ফ্লোরে স্বামী ও ছেলেদের সঙ্গে থাকতেন উর্মিলা সাউ। বাড়ির পিছনের অংশে থাকতেন নতুন মালিকপক্ষের সদস্যরাও। তাঁরাও ধসের সময় আটকে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারাই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করেন। আপাতত বাড়িটি পুরো ভেঙে ফেলার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। কারণ পুরো না ভাঙলে আশেপাশের বাড়িগুলির জন্য তা বিপজ্জনক হতে পারে। ইতিমধ্যেই প্রতিবেশীদের অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

উঠছে একাধিক প্রশ্ন

ঘটনায় বেশ কয়েকটি প্রশ্ন উঠছে। যেমন, ছয় মাস আগে বাড়ির পিছনের অংশ ধসে পড়ার পরেও কেন পুরো বাড়িটি খালি করা গেল না? কেন বিপজ্জনক বাড়ি নিয়ে চলতে থাকা বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়া বিবাদের দ্রুত নিষ্পত্তি হল না? আর সোমবার রাত থেকেই যখন বাড়ির অংশবিশেষ খসে পড়ছিল, তখন অভিযোগ জানানোর পরেও কেন কোনও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হল না?

তবে এই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বও তৈরি হয়েছে। সকালেই ঘটনাস্থলে আসেন বিজেপি নেত্রী পূর্ণিমা কোঠারি। তিনি দায় ঠেলেছেন বিগত সরকারের দিকেই। এলাকার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর ইলোরা সাহার বিরুদ্ধে নজরদারি অভাবের অভিযোগ তোলেন তিনি।

পাথুরিয়াঘাটা কলকাতার এমন একটি এলাকা, যেখানে অতীতেও একাধিকবার পুরনো বাড়ি ভেঙে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বিপজ্জনক বাড়ি নিয়ে কড়া পদক্ষেপের উদ্যোগ নিয়েছিল কলকাতা পুরসভা। কিন্তু আইন থাকলেও তার বাস্তবায়ন নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে।

পাথুরিয়াঘাটার এই ঘটনা ফের সামনে এনে দিল পুরনো প্রশ্ন। বিপজ্জনক বাড়ি চিহ্নিত করাই কি যথেষ্ট, নাকি প্রাণহানি ঠেকাতে সময়মতো সেই বাড়ি খালি করাটাই এখন প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ?

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us