Air Cooler Humidity Health Risks: গরম থেকে বাঁচতে এয়ার কুলার চালাচ্ছেন! অজান্তেই বিপদ ডেকে আনছেন না তো?

Risks of air cooler humidity: তীব্র গরমে এয়ার কুলার ব্যবহারের ফলে ঘরের আর্দ্রতা মারাত্মক বেড়ে যায়। এই জলীয় বাষ্প ও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের জেরে সিওপিডি ও অ্যাজমা রোগীদের শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করলেন ডঃ সৌম্য গায়েন (সহকারী অধ্যাপক , প্লাষ্টিক সার্জারি , উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল)।

Air Cooler Humidity Health Risks: গরম থেকে বাঁচতে এয়ার কুলার চালাচ্ছেন! অজান্তেই বিপদ ডেকে আনছেন না তো?
তীব্র গরমে এয়ার কুলার ব্যবহারের ফলে ঘরের আর্দ্রতা মারাত্মক বেড়ে যায়Image Credit source: Gemini Ai

May 26, 2026 | 2:41 PM

এয়ার কুলার (Air Cooler) এখন এই গনগনে দুপুরে অনেকের ঘরেই স্বস্তির অপর নাম। এসি কেনার সামর্থ্য বা ইচ্ছে যাঁদের নেই, তাঁরা চোখ বন্ধ করে ভরসা করেন এই যন্ত্রটির ওপর। কিন্তু এই ঠান্ডা হাওয়া যে আড়ালে ফুসফুসের কতটা বড় ক্ষতি করে চলেছে, তা সাধারণ মানুষ টের পাননা। বিশেষ করে যাঁদের শ্বাসকষ্টের পুরনো ধাত রয়েছে, এই গরমে একটু ঠান্ডার খোঁজে তাঁদের এয়ার কুলার ব্যবহার করা কিন্তু হিতে বিপরীত হতে পারে। এই বিষয়েই কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন ডঃ সৌম্য গায়েন (সহকারী অধ্যাপক , প্লাষ্টিক সার্জারি , উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল)। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এয়ার কুলার থেকে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত আর্দ্রতা সিওপিডি (COPD) বা অ্যাজমা রোগীদের শ্বাসকষ্টের মাত্রা অনেকটাই বাড়িয়ে দিতে পারে।

আসলে এয়ার কুলার ঘর ঠান্ডা করার জন্য জল ব্যবহার করে। ফলে এটি চলার সময় ঘরের ভেতরের বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বা আচ্ছন্নতা মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। এই পুরো বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করে ডঃ সৌম্য গায়েন বলেন, “এয়ার কুলার থেকে যে হাওয়া বের হয়, তা অত্যন্ত আর্দ্র এবং জলীয় বাষ্পযুক্ত। এই ঠান্ডা জলীয় হাওয়া যখন সরাসরি ফুসফুসে প্রবেশ করে, তখন তা সবার আগে আমাদের নাসিকাপথ এবং নাকের ভেতরের সাইনাসগুলোকে অতিরিক্ত ঠান্ডা করে দেয়।”

এই অতিরিক্ত ঠান্ডাই কিন্তু শেষ কথা নয়, এর চেয়েও বড় বিপদের কারণ লুকিয়ে রয়েছে ওই হাওয়ার ভেতরের সূক্ষ্ম কণাগুলোর মধ্যে। চিকিৎসকের ভাষায়, “এই জলীয় হাওয়ার মধ্যে অত্যন্ত সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম জলকণা ভেসে বেড়ায়। বাতাসে ঘুরে বেড়ানো বিভিন্ন ক্ষতিকর ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়ার জন্য এই জলকণাগুলো আসলে চমৎকার ‘বাহন’ বা ভেহিকেল হিসেবে কাজ করে। স্বাভাবিকভাবেই, এই ঠান্ডা জলীয় হাওয়ার মধ্যে জীবাণুর মাত্রা অনেক বেশি থাকে, যা ফুসফুসে গিয়ে সরাসরি সংক্রমণ বা ইনফেকশনের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।”

ফুসফুসের রোগাক্রান্ত মানুষদের জন্য এই হাওয়া তাই এক প্রকার বিষের মতন কাজ করে। একদিকে ঠান্ডা হাওয়া শ্বাসনালীকে সংকুচিত করে দেয়, অন্যদিকে জীবাণুর আক্রমণ ফুসফুসের ভেতরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে তোলে। তাই ডঃ সৌম্য গায়েনের পরামর্শ, সাময়িক আরামের চক্করে পড়ে সিওপিডি বা অ্যালার্জির মতন ক্রনিক রোগীরা যেন এয়ার কুলারকে ঘরের নিত্যসঙ্গী না করে ফেলেন। ফুসফুসকে সুরক্ষিত রাখতে এই শুষ্ক ও আচ্ছন্ন হাওয়া থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। খুব প্রয়োজন হলে সতর্কতা অবলম্বন করে চলাই শ্রেয়।

Follow Us