
বর্তমান ব্যস্ত জীবনে উদ্বেগ, অস্থিরতা, অতিরিক্ত চাপ কিংবা হঠাৎ প্যানিক অ্যাটাকের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় অনেককেই। এমন সময়ে নিজেকে শান্ত করার জন্য নানা ধরনের শ্বাস-প্রশ্বাসের কৌশল অনুসরণ করা হয়। এবার এমনই একটি বিশেষ ব্রিদিং টেকনিকের কথা জানালেন লেখক ও শিল্পী শাহিন ভাট। তাঁর শেয়ার করা ‘ফিজিওলজিক্যাল সাই’ (Physiological Sigh) পদ্ধতি নিয়ে ইতিমধ্যেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে নেট মাধ্যমে।
সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে শাহিন ভাট এই শ্বাস-প্রশ্বাসের কৌশলটি কীভাবে করতে হয়, তা ভিডিয়ো দেখিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, মাথার মধ্যে যখন একসঙ্গে অনেক চিন্তা ঘুরতে থাকে, তখন শুধু নিজেকে ‘শান্ত হও’ বোঝালে সবসময় কাজ হয় না। বরং শরীর থেকে শুরু করে মনকে শান্ত করার চেষ্টা করা যেতে পারে।
কী এই ‘ফিজিওলজিক্যাল সাই’?
ফিজিওলজিক্যাল সাই হল একটি নির্দিষ্ট ধরনের গভীর শ্বাস নেওয়ার পদ্ধতি। শাহিন ভাটের শেয়ার করা ভিডিয়ো অনুযায়ী, প্রথমে নাক দিয়ে গভীর শ্বাস নিতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে আরও একটি ছোট ও দ্রুত শ্বাস নিতে হবে। সবশেষে মুখ দিয়ে ধীরে ও দীর্ঘ সময় ধরে শ্বাস ছাড়তে হবে। শাহিন ভাট জানিয়েছেন, ঘাবড়ে যাওয়া, অস্থিরতা, প্যানিক বা অতিরিক্ত স্ট্রেসের সময় এই পদ্ধতিটি কয়েকবার অনুশীলন করা যেতে পারে।
কীভাবে করবেন?
প্রথম ধাপ: নাক দিয়ে ধীরে একটি গভীর শ্বাস নিন।
দ্বিতীয় ধাপ: ফুসফুসে বাতাস নেওয়ার পর আরও একটি ছোট ও দ্রুত শ্বাস নিন।
তৃতীয় ধাপ: এবার মুখ দিয়ে ধীরে এবং দীর্ঘভাবে পুরো শ্বাস ছেড়ে দিন।
এই প্রক্রিয়াটি প্রায় ৪ থেকে ৫ বার করার কথা জানিয়েছেন শাহিন।
শাহিন ভাট যে পদ্ধতিটি তুলে ধরেছেন, সেটি নিউরোসায়েন্টিস্ট অ্যান্ড্রু হিউবারম্যানও বিভিন্ন আলোচনায় ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর বক্তব্যে ‘সাইক্লিক্যাল ফিজিওলজিক্যাল সাই’-এর উল্লেখ পাওয়া যায়। শ্বাস নেওয়ার এই ধরনের প্যাটার্ন নিয়ে গবেষণাতেও স্ট্রেস কমানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শুধু এই পদ্ধতিই নয়, বিভিন্ন ধরনের নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন, মেডিটেশন ও যোগের প্রণায়াম দীর্ঘদিন ধরেই শরীর ও মনকে শিথিল করার উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।