
জল খেলেও অম্বল—এমন সমস্যায় আপনি একা ভোগেন না। অনেকেই রয়েছেন, যাঁরা প্রায়দিন গ্যাস-অম্বলের সমস্যায় ভোগেন। খাওয়া-দাওয়ার একটু অনিয়ম হলেই চোঁয়া ঢেকুর দিতে থাকে। লাঞ্চ বা ডিনার খাওয়ার পরই যেন পেট গ্যাসে ফুলে যায়। পাচনতন্ত্র ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল না থাকলে সামগ্রিক স্বাস্থ্যও দুর্বল হয়ে পড়ে। মুখে ব্রণ, ওজন বেড়ে যাওয়া এমনকি অ্যানজাইটি বেড়ে যাওয়ার মতো একাধিক সমস্যা দেখা দেয়। হজমজনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে খাবার খাওয়ার পর পানীয়ের সাহায্য নিন। এমন ৫টি পানীয় রয়েছে, যা হজমে সাহায্য করে। শুধু এই পানীয়গুলো ভারী খাবার খাওয়ার পর খেতে হবে।
কম্বুচা: এই চা ফার্মেন্টেড করে তৈরি হয়। তাই কম্বুচায় প্রোবায়োটিক উপাদান রয়েছে। ভাল ব্যাকটেরিয়া ও ইস্ট থাকায় কম্বুচা অন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এই পানীয় খেলে খাবার দ্রুত হজম হয়ে যায়। লাঞ্চের পর এই চা খেলে এটি পেট ফোলা এবং পেটের অস্বস্তি কমে যায়।
আদা চা: হজমজনিত সমস্যা হোক বা পেটে ব্যথা, আদা দিয়ে চা স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। বদহজম, বমি বমি ভাব এবং ফোলাভাবকে দূর করার ক্ষেত্রে আদা চা দুর্দান্ত কাজ করে। আদায় উপস্থিত কিছু সক্রিয় যৌগ হজমে সহায়তা করে।
অ্যালোভেরা জুস: অ্যালোভেরা জুস হজমের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। এনজাইম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর অ্যালোভেরা জুস অন্ত্রের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা কমায়। বাওয়েল মুভমেন্টকে (মলত্যাগের প্রক্রিয়া) উন্নতও করে। তাছাড়া অ্যালোভেরা জুসে একাধিক পুষ্টি রয়েছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
শুকনো প্লামের জুস: ড্রাই ফ্রুটসে শুকনো প্লাম থাকেই। এই শুকনো ফলের রস খাবার হজমে সাহায্য করে। এই জুসের মধ্যে ফাইবার, সরবিটল ও ফেনোলিক যৌগ রয়েছে, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের দেখভাল করে। প্রতিদিন পেট পরিষ্কার হয়ে যায় শুকনো প্লামের রস খেলে। ভারী খাবার খাওয়ার পর শুকনো প্লামের রস খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। এতে হজম স্বাস্থ্য উন্নত হবে।
রাসাম: দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় খাবার রাসাম। তেঁতুল, টমেটো এবং বিভিন্ন মশলা দিয়ে তৈরি হয় রাসাম। এটি যেমন সুস্বাদু, তেমনই স্বাস্থ্যকর। এই খাবার হজমজনিত অস্বস্তি থেকে মুক্তি দেয়। লাঞ্চের পর এই খাবার খেলে বদহজমের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।