
রান্নাঘরের (Kitchen) একটা চেনা ছবি দিয়ে শুরু করা যাক। সুজি বা চিনির কৌটোর ঢাকনাটা খুলতেই চোখ কপালে ওঠার জোগাড়! চারদিক ছেয়ে গিয়েছে কালো বা লাল পিঁপড়ের দলে। আর একবার যদি মিষ্টির স্বাদ এই খুদে বাহিনীর মুখে লেগে যায়, তবে তাদের তাড়ানো যেন এক মহাভারত যুদ্ধ। চিনির দানা থেকে বেছে বেছে পিঁপড়ে ঝাড়তে গিয়ে গৃহিণীদের কালঘাম ছুটে যাওয়ার জোগাড় হয়। বাজারচলতি রাসায়নিক স্প্রে খাবারে দেওয়া যায় না, আবার পিঁপড়ের অত্যাচারও মুখ বুজে সহ্য করা অসম্ভব। কিন্তু জানেন কি, বিজ্ঞান বলছে পিঁপড়েরা তীব্র গন্ধ একেবারেই সহ্য করতে পারে না? তাদের এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়েই কোনও কেমিক্যাল ছাড়াই সুজি বা চিনির কৌটোকে একশো ভাগ পিঁপড়েমুক্ত রাখা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন শুধু আপনার হেঁশেলে থাকা ৩টি চেনা সুগন্ধি উপাদান।
কীভাবে তাড়াবেন পিঁপড়ে?
লবঙ্গ: চিনির কৌটোর সবচেয়ে বড় এবং বিশ্বস্ত রক্ষাকবচ হল লবঙ্গ। এই ছোট্ট মশলাটির ঝাঁঝালো গন্ধ পিঁপড়েরা একদমই বরদাস্ত করতে পারে না। চিনির পাত্রে ৩ থেকে ৪টি আস্ত লবঙ্গ ফেলে রেখে দেখুন। এর কড়া গন্ধের কারণে পিঁপড়ের দল ওই কৌটোর সীমানায় আসার সাহসও পাবে না। চিনির স্বাদে কোনও বদল না এনেই এটি চমৎকার কাজ করে।
দারুচিনি: লবঙ্গের মতোই আরেক উপাদান হল দারুচিনি। মিষ্টি সুবাসের জন্য মানুষের কাছে দারুচিনি অত্যন্ত প্রিয় হলেও, পিঁপড়েদের কাছে এটি চরম অস্বস্তিকর। সুজি বা চিনির পাত্রের ভেতরে ছোট এক টুকরো দারুচিনির কাঠি রেখে দিলেই কেল্লাফতে। এই মশলার প্রাকৃতিক তেল পিঁপড়েকে দূরে রাখবে।
তেজপাতা: সবশেষে আসে তেজপাতার ম্যাজিক। বিরিয়ানি বা পায়েসের স্বাদ বাড়ানো তেজপাতা যে পিঁপড়ে তাড়াতেও এত কার্যকরী, তা অনেকেই জানেন না। ২-৩টি শুকনো তেজপাতা চিনির কৌটোর মধ্যে গুঁজে দিন। তেজপাতার তীব্র ও ভেষজ গন্ধ পিঁপড়েদের জন্য প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে কাজ করে। এর ফলে পিঁপড়েরা পথ হারিয়ে পালাবে কিন্তু আপনার চিনির গুণমান থাকবে একদম অক্ষুণ্ণ।
তাই আর বারবার চিনি ঝেড়ে সময় নষ্ট নয়, আজই রান্নাঘরের এই সহজ এবং সুগন্ধি টোটকাগুলো ব্যবহার করে দেখুন। নিমিষেই দূর হবে পিঁপড়ের উপদ্রব, আর আপনার হেঁশেল থাকবে সুরক্ষিত ও সুবাসিত।