
খাবার পর পেট ভরে গেলেও কি একটু মিষ্টি, চকোলেট বা বিস্কুট খেতে ইচ্ছা করে? খাওয়ার পর ইচ্ছেটাকে অনেকেই স্রেফ একটা অভ্যাস বা পছন্দ বলে মনে করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পিছনে লুকিয়ে থাকতে পারে গুরুতর কোনও কারণ। চিকিৎসকরা যাকে বলেন, মেটাবলিক ইমব্যালেন্স।
১. ভাত, রুটি বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খাওয়ার পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। শরীর তখন ইনসুলিন নিঃসরণ করে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু খাবারটিতে যদি পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ফাইবার না থাকে, তবে ইনসুলিনের এই মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক ততটাই দ্রুত নেমে যায়।
খাওয়ার ঠিক পরেই রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাত্ কমে যাওয়ার ফলে শরীর দ্রুত শক্তির অভাব বোধ করে। তখন তখন মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা জাগায় মস্তিষ্ক। এই চক্রটিকে ‘রিঅ্যাক্টিভ হাইপোগ্লাইসেমিয়া’ বলা হলেও বেশিরভাগ মানুষ এটিকে কেবল একটি মিষ্টির লোভ বলেই মনে করেন।
২. প্রোটিন কেবল পেশি গঠনেই সাহায্য করে না, খাবার খাওয়ার পর শরীর কীভাবে তা হজম করবে তা নিয়ন্ত্রণ করতেও বড় ভূমিকা রাখে। প্রোটিন হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে, রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখে এবং পেট ভরার অনুভূতি দীর্ঘস্থায়ী করে। খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে শরীর কাঙ্ক্ষিত তৃপ্তি পায় না, যা মস্তিষ্ককে দ্রুত শক্তির উৎস হিসেবে শর্করার খোঁজ করায়।
৩. অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া মানুষ যা খায় তার ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে সরল শর্করা বা সিম্পল কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খেলে এমন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পায় যা মিষ্টি বা শর্করায় বাঁচে। ফলে এই মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
৪. সবসময় যে রক্তে শর্করার তারতম্যের কারণে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে হয়, তা নয়। অনেক সময় এটি মনস্তাত্ত্বিকও বটে। মিষ্টি খেলে অনেকের ডোপামিন হরমোন নিঃসরণ হয়, যা মনকে খুশি রাখে।
খাবারের তালিকায় প্রোটিনের পরিমাণ বাড়িয়ে এবং সুষম খাবার গ্রহণের মাধ্যমে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখলে এই ধরনের শারীরিক ও মানসিক মিষ্টি খাওয়ার তাগিদ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।