
নবদ্বীপের লাল দই (Nabadwip Lal Doi) নামটা শুনলেই জিভে জল চলে আসে না এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া মুশকিল। মাটির ভাঁড়ে জমাট বাঁধা, ঘন লালচে রঙের এই মিষ্টি দইয়ের মিষ্টি স্বাদের কোনও তুলনাই হয় না। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষের মনেই প্রশ্ন থাকে, কোনও ক্ষতিকর কৃত্রিম রং বা কেমিক্যাল ছাড়া এই মিষ্টি দই কীভাবে অতটা লাল আর গাঢ় হয়? উত্তরটা খুব সহজ। এর আসল রহস্য লুকিয়ে রয়েছে দুধের ঘন ক্ষীর বানানো আর সঠিক উপায়ে চিনি পুড়িয়ে লাল বা ক্যারামেল করার বিশেষ কৌশলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঐতিহ্যবাহী দই বানানোর ম্যাজিক লুকিয়ে রয়েছে দুধের মাপে।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
ফুল ক্রিম দুধ: ১ লিটার
চিনি: ১ কাপ
টক দই বা সাজ: ২ টেবিল চামচ (জল ঝরানো)
জল: ২ টেবিল চামচ
প্রণালী
১. বীজ দই ও পাত্র তৈরি: প্রথমে ২ টেবিল চামচ টক দই পাতলা কাপড়ে বেঁধে জল ঝরাতে দিন। যে মাটির পাত্রে দই পাতবেন, সেটি জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিন।
২. দুধ ঘন করা: একটি পাত্রে ১ লিটার দুধ ঢেলে মাঝারি আঁচে বসিয়ে দিন। দুধ বারবার নাড়তে থাকুন যাতে তলায় ধরে না যায়। দুধ ফুটিয়ে প্রায় অর্ধেক করে নিন।
৩. রং তৈরির কৌশল (ক্যারামেল): অন্য একটি প্যানে আধা কাপ চিনি ও ২ টেবিল চামচ জল দিয়ে কম আঁচে গলতে দিন। চিনি গলে গাঢ় বাদামী বা লালচে রঙ হলে গ্যাস বন্ধ করুন। এবার ঘন করে রাখা দুধ থেকে কিছুটা দুধ এতে সাবধানে ঢেলে মিশিয়ে নিন।
৪. মিষ্টি ও রং মেলানো: এবার এই লালচে মিশ্রণটি বাকি ঘন দুধের কড়াইতে ঢেলে দিন। সঙ্গে বাকি আধা কাপ চিনিও মিশিয়ে নিন। আরও ৫ মিনিট ফুটিয়ে নিলেই দুধে চমৎকার লাল রং চলে আসবে।
৫. দই পাতা: দুধ গ্যাস থেকে নামিয়ে কিছুটা ঠান্ডা করুন। হাত দিলে যেন সহনীয় গরম লাগে। এবার জল ঝরানো টক দই ভালো করে ফেটিয়ে ঈষদুষ্ণ দুধে মিশিয়ে দিন।
৬. জমাট বাঁধানো: মিশ্রণটি মাটির পাত্রে ঢেলে ফয়েল পেপার দিয়ে ঢেকে দিন। ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা কোনও গরম জায়গায় রেখে দিন। জমাট বেঁধে গেলে ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাটির পাত্র দইয়ের অতিরিক্ত জল শুষে নেয়, যার ফলে দই বেশ জমাট ও মিষ্টি হয়। এই সহজ নিয়ম মেনে বানিয়ে দেখুন, স্বাদে একদম নবদ্বীপকেও টেক্কা দেবে আপনার হাতের দই!