
রোজকার ক্লান্তি দূর করতে একটা চাঙ্গা করা স্নানের চেয়ে ভালো আর কী-ই বা হতে পারে? কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার রোজকার এই স্নানের অভ্যাসেই লুকিয়ে রয়েছে এক জাদুকরী ম্যাজিক? দামী কোনও স্পা বা পার্লারের ট্রিটমেন্ট নয়, কেবল আপনার রান্নাঘরের চেনা এক উপকরণই দূর করতে পারে আপনার ব্যস্ত জীবনের স্ট্রেস। কী সেই উপকরণ? নুন!
আজকালের লাইফস্টাইলে স্ট্রেস আর দূষণ যখন আমাদের নিত্যসঙ্গী, তখন স্নানের জলে মাত্র এক চিমটে নুন মিশিয়ে নেওয়া হয়ে উঠতে পারে আপনার সেরা ‘সেলফ-কেয়ার’ রুটিন। এই নুন আপনার শরীরে ঠিক কী কী ম্যাজিক ঘটাতে পারে।
সারাদিন ল্যাপটপের সামনে বসে কাজ, কিংবা শহরের ট্রাফিকের ধকল—দিনের শেষে পেশিতে টান ধরা বা শরীর ম্যাজম্যাজ করা খুব চেনা একটা সমস্যা। স্নানের ঈষদুষ্ণ জলে এক চিমটে নুন (বিশেষ করে যদি রক সল্ট বা এপসম সল্ট হয়) মিশিয়ে নিলে তা পেশির ক্লান্তি দূর করতে দারুণ কাজ করে। নুনে থাকা ম্যাগনেসিয়াম ও খনিজ উপাদান ত্বকের মাধ্যমে শরীরে শোষিত হয়ে পেশিকে রিল্যাক্স করে, ফলে নিমেষেই দূর হয় সব ক্লান্তি।
আমাদের অজান্তেই প্রতিদিন ত্বকের ছিদ্রে ছিদ্রে জমে ওঠে ধুলোবালি আর টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ। নুন জল প্রাকৃতিকভাবেই একটি চমৎকার ‘ডিটক্সিফায়ার’ হিসেবে কাজ করে। এটি ত্বকের রোমকূপগুলো খুলে দেয় এবং শরীরের ভেতরের ক্ষতিকর টক্সিন বাইরে বের করে দিতে সাহায্য করে। ফলে শরীর ভেতর থেকে হালকা এবং সতেজ মনে হয়।
নুন জল খুব মৃদু এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করে। স্নান করার সময় এই জল ত্বকের উপরিভাগের মরা কোষ বা ডেড স্কিন সেলগুলোকে আলতো করে সরিয়ে দেয়। এর ফলে ত্বক হয়ে ওঠে নরম, মসৃণ এবং ভেতর থেকে উজ্জ্বল। যাঁদের পিঠে বা কাঁধে ব্রন বা র্যাশের সমস্যা রয়েছে, নুনের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণের কারণে তাঁরা এই অভ্যাসে দারুন উপকার পাবেন।
বর্ষা কিংবা গরমে ত্বকে নানা রকম অ্যালার্জি, চুলকানি বা ফাঙ্গাল ইনফেকশনের সমস্যা দেখা দেওয়া বিচিত্র নয়। নুন হল প্রকৃতির নিজস্ব অ্যান্টিসেপ্টিক। স্নানের জলে নুন মেশালে তা ত্বকের ছোটখাটো ইনফেকশন, র্যাশ বা চুলকানির অস্বস্তি কমাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। ত্বককে রাখে সুরক্ষিত ও জীবাণুমুক্ত।
উদ্বেগ আর স্ট্রেসের কারণে রাতের ঘুমটা ঠিকঠাক হচ্ছে না? আজ রাত থেকেই স্নানের জলে নুন মেশানো শুরু করুন। নুন জল শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয় এবং স্নায়ু শান্ত করতে সাহায্য করে। এই স্নান আপনার শরীরে এক ধরণের আরামদায়ক অনুভূতি এনে দেবে, যা মনকে শান্ত করবে এবং আপনাকে উপহার দেবে একটা গভীর, শান্তির ঘুম।
রোজকার সাধারণ টেবিল সল্ট ব্যবহার করতেই পারেন, তবে সেরা ফলের জন্য রক সল্ট , সি সল্ট বা এপসম সল্ট বেছে নিতে পারলে সবচেয়ে ভালো। জল যেন খুব বেশি গরম না হয়, হালকা গরম বা ঈষদুষ্ণ জলেই নুন ভালো কাজ করে। তাহলে আর দেরি কেন? আজ থেকেই আপনার বাথটাব কিংবা বালতির জলে মিশিয়ে নিন এক চিমটে নুন, আর ঘরোয়া উপায়েই উপভোগ করুন লাক্সারি স্পা-এর আমেজ!