দোলের রাতে বছরের দীর্ঘতম গ্রহণ চলবে আকাশে, কতটা শুভ, কতটা অশুভ এদিনটি?

আগামী ৩ মার্চ, হোলিকা দহনের দিনেই বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ ঘটতে চলেছে। এটি কেবল বছরের প্রথম গ্রহণই নয়, বরং দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণ হতে চলেছে। জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী, এই গ্রহণের স্থায়িত্ব হবে ৩ ঘণ্টা ২৭ মিনিট। সিংহ রাশি এবং পূর্বফাল্গুনী নক্ষত্রে এই গ্রহণ লাগবে। যেহেতু এই চন্দ্রগ্রহণ ভারত থেকে দেখা যাবে, তাই ধর্মীয় নিয়ম মেনে এর ‘সুতক কাল’ বা অশুচি সময়ও গণ্য হবে।

দোলের রাতে বছরের দীর্ঘতম গ্রহণ চলবে আকাশে, কতটা শুভ, কতটা অশুভ এদিনটি?

|

Feb 27, 2026 | 7:15 PM

সনাতন ধর্ম এবং জ্যোতিষ শাস্ত্রে চন্দ্রগ্রহণকে একটি অশুভ ঘটনা হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। তবে এ বছরের ফাল্গুন পূর্ণিমা তিথিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং খানিকটা উদ্বেগেরও। আগামী ৩ মার্চ, হোলিকা দহনের দিনেই বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ ঘটতে চলেছে। এটি কেবল বছরের প্রথম গ্রহণই নয়, বরং দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণ হতে চলেছে। জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী, এই গ্রহণের স্থায়িত্ব হবে ৩ ঘণ্টা ২৭ মিনিট। সিংহ রাশি এবং পূর্বফাল্গুনী নক্ষত্রে এই গ্রহণ লাগবে। যেহেতু এই চন্দ্রগ্রহণ ভারত থেকে দেখা যাবে, তাই ধর্মীয় নিয়ম মেনে এর ‘সুতক কাল’ বা অশুচি সময়ও গণ্য হবে।

সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণের সময় সূতক কালের গুরুত্ব অপরিসীম। হিন্দু শাস্ত্র মতে, এই সময় থেকে খাদ্য গ্রহণ এবং দেব-বিগ্রহ স্পর্শ বা পূজা করা নিষিদ্ধ।

সাধারণত সূর্যগ্রহণের ১২ ঘণ্টা আগে এবং চন্দ্রগ্রহণের ৯ ঘণ্টা আগে সূতক কাল শুরু হয়ে যায়।

এই সময় বাড়ির এবং বাইরের মন্দিরের কপাট বন্ধ রাখা হয়।

বাড়িতে কোনো প্রকার পূজা-পাঠ করা হয় না।

গ্রহণ শেষে মন্দির ও গৃহ শুদ্ধিকরণের বিধি
চন্দ্রগ্রহণ সমাপ্ত হওয়ার পর ঘরবাড়ি ও ঠাকুরঘর শুদ্ধ করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করা হয়। এর সঠিক নিয়মগুলি নিচে দেওয়া হলো:

১. মন্দির ও বিগ্রহ শুদ্ধিকরণ
গ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রথমেই বাড়ির মন্দির পরিষ্কার করতে হবে।

স্নান ও গঙ্গাজল: বাড়ির সদস্যরা স্নান সেরে নিয়ে গোটা মন্দিরে গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিন।

পরিচ্ছন্নতা: মন্দির পরিষ্কার করার পর বিগ্রহের পুরনো পোশাক সরিয়ে ফেলুন।

অভিষেক: প্রতিটি প্রতিমাকে পরিষ্কার জলে স্নান করিয়ে গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধ করতে হবে। এরপর দেবতাকে নতুন বস্ত্র, টাটকা ফুল এবং ভোগ অর্পণ করে আরতি ও পূজা সম্পন্ন করুন।

২. গৃহ শুদ্ধিকরণ
গৃহের নেতিবাচক প্রভাব কাটাতে শাস্ত্রীয় কিছু টোটকা মানার পরামর্শ দেওয়া হয়:

লবণ জল ও গোমূত্র: এক চিমটি লবণ মেশানো জল দিয়ে পুরো বাড়ি মুছুন এবং এরপর সর্বত্র গঙ্গাজল ও গোমূত্র ছিটিয়ে দিন।

ধূপ-ধুনো: বাড়িতে শান্তি বজায় রাখতে ও পরিবেশ পরিশুদ্ধ করতে ঘিয়ে ভেজানো ধূপ বা হোমের ধোঁয়া দিন।