
আঙুল মটকানো (Knuckles Cracking) জিনিসটা অনেকেরই প্রায় একটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। পড়তে পড়তে, মোবাইলে চোখ বুলোতে বুলোতে কিংবা ল্যাপটপে কাজ করার ফাঁকে ‘কট’ করে আঙুল না ফাটালে ঠিক স্বস্তি পাওয়া যায় না। কিন্তু এই কাজটা করলেই চারপাশে থাকা অভিজ্ঞ মানুষেরা ফতোয়া জারি করে বসেন, “ওভাবে আঙুল ফাটানো বন্ধ কর, হাড়ের ক্ষয় হয়ে শেষ হয়ে যাবে!” আবার অনেকে বলেন, এতে নাকি বয়সকালে বাতের রোগ নিশ্চিত। কিন্তু প্রশ্ন হল, সত্যিটা ঠিক কী? নাকি পুরোটাই বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা কোনও ভুল ধারণা?
ফ্লোরিডার এক হাড়ের চিকিৎসক ডক্টর ডেভিড আব্বাসি (Dr. David Abbasi) বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যখন আঙুল মটকানো হয়, তখন কিন্তু দুটো হাড়ের মধ্যে কোনও ঘষাঘষি হয় না। তা হলে এই ‘কট’ শব্দটা আসে কোথা থেকে?
আসলে আঙুলের প্রতিটি জয়েন্টে একধরনের বিশেষ তরল পদার্থ থাকে। সেই তরলের মধ্যে কিছু গ্যাস দ্রবীভূত অবস্থায় মিশে থাকে। যখনই আঙুলে হঠাৎ টান পড়ে বা চাপ সৃষ্টি করা হয়, তখন ওই তরলের ভেতরের বায়ুচাপে দ্রুত হেরফের ঘটে। আর ঠিক তখনই গ্যাসের ছোট ছোট বুদ্বুদ তৈরি হয়ে মুহূর্তের মধ্যে ফেটে যায়। বাইরে থেকে আমরা যে শব্দটা শুনি, তা মূলত ওই বুদ্বুদ ফাটার আওয়াজ, হাড় ক্ষয়ে যাওয়ার নয়।
ডাক্তার আব্বাসি এবং একাধিক আধুনিক গবেষণায় স্পষ্ট দেখা গিয়েছে, আঙুল মটকানোর সঙ্গে বাতের রোগ বা আর্থ্রাইটিসের কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই। ফলে অহেতুক প্যানিক করার একদমই দরকার নেই।
তবে একটা কথা খেয়াল রাখা দরকার, কোনও কিছুই অতি মাত্রায় ভালো নয়। অভ্যাস বশে যদি কেউ সারাদিন ধরে অতিরিক্ত জোরে আঙুল মটকাতে থাকেন, তবে জয়েন্টের চারপাশের নরম টিস্যু ও লিগামেন্টের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই টিস্যু দুর্বল হয়ে গিয়ে হাতের গ্রিপ বা ধরে রাখার শক্তি সামান্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।