
ভাইবোনের মধ্যে সম্পর্ক নষ্টের অন্যতম প্রধান কারণ সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ। বাবা-মা জীবিত থাকাকালীন সম্পত্তি বণ্টন না করায় তাঁদের মৃত্যুর পর এই সংকট তীব্র হয়। বাবা-মা যদি ছেলেকে সমস্ত সম্পত্তি দিয়ে দেন, তবে মেয়ের আইনি অধিকার থাকবে কি না, তা মূলত নির্ভর করে সম্পত্তিটি স্ব-অর্জিত নাকি পৈত্রিক—তার ওপর।
স্ব-অর্জিত সম্পত্তি ও মেয়েদের অধিকার
বাবা-মা নিজেদের উপার্জনে কেনা সম্পত্তি যাঁকে খুশি দান করতে পারেন। রেজিস্ট্রি করা ‘গিফট ডিড’ (Gift Deed) বা ‘উইল’ (Will)-এর মাধ্যমে সম্পত্তি ছেলেকে দিয়ে গেলে, মেয়ে সন্তান হিসেবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার দাবি জানাতে পারেন না। তবে প্রতারণা, জোরজবরদস্তি বা বাবা-মায়ের মানসিক অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে এটি করা হয়ে থাকলে, মেয়ে আদালতে সেই দানপত্র বা উইলকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। আবার, বাবা-মা কোনও উইল না করে মারা গেলে ‘হিন্দু উত্তরাধিকার আইন’ অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির ওয়ারিশ হিসেবে ছেলে ও বিবাহিত বা অবিবাহিত মেয়ে সমান অংশ পাবেন।
পৈতৃক সম্পত্তি ও আইনের সুরক্ষা
পৈতৃক সম্পত্তির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। ২০০৫ সালের হিন্দু উত্তরাধিকার (সংশোধনী) আইন অনুযায়ী, পৈতৃক সম্পত্তিতে ছেলের মতোই মেয়েরও সমান অধিকার রয়েছে। মেয়ে বিবাহিত হলেও এই অধিকার ক্ষুণ্ণ হয় না। বাবা-মা চাইলেই পৈতৃক সম্পত্তি থেকে মেয়েকে বঞ্চিত করে শুধুমাত্র ছেলের নামে তা হস্তান্তর করতে পারেন না।
আইনজীবী রবি কুমার ভাধ্যারাপুর মতে, ভাইয়ের নামে সম্পত্তি রেজিস্ট্রি হওয়াই শেষ কথা নয়। বঞ্চিত হলে বা আইনি বেআইনি হস্তান্তর ঘটলে মেয়েরা আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন।