Milk tea benefits: দুধ চা খেলে কি দুধের পুষ্টি মেলে? গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

Milk tea nutrition facts: দুধের পুষ্টি পাওয়ার আশায় কি রোজ আয়েশ করে দুধ চায়ে চুমুক দিচ্ছেন? বিজ্ঞানের গবেষণায় কিন্তু উঠে এল এমন এক সত্যি, যা জানলে চোখ কপালে উঠতে পারে! কী বলছে গবেষণা?

Milk tea benefits: দুধ চা খেলে কি দুধের পুষ্টি মেলে? গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
কী বলছে গবেষণা?Image Credit source: Free pik

Sep 04, 2026 | 4:33 PM

সকালে ঘুম ভাঙার পর ধোঁয়া ওঠা এক কাপ গরম চা ছাড়া অনেকেরই দিন শুরু হতে চায় না। আর সেই চা যদি ঘন দুধ আর চিনি দিয়ে তৈরি হয়, তবে তো কথাই নেই। দুধের গন্ধ সহ্য করতে না পেরে যাঁরা এক গ্লাস দুধ ছুঁয়েও দেখেন না, তাঁদের অনেকেই কিন্তু দিনে তিন-চার কাপ দুধ চা দিব্যি খেয়ে নেন। মনে মনে অনেকেই সান্ত্বনা খোঁজেন, চা তো খাওয়া হলই, সঙ্গে দুধের ক্যালসিয়াম ও ভিটামিনটাও শরীরে পৌঁছে গেল! কিন্তু প্রশ্ন হল, চা পাতার সঙ্গে দুধ ফুটলে কি দুধের পুষ্টিগুণ আদৌ অক্ষুণ্ণ থাকে? চিকিৎসাবিজ্ঞান ও পুষ্টিবিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এসেছে একেবারে চমকপ্রদ তথ্য।

সাধারণভাবে অনেকের ধারণা থাকে, দুধের সঙ্গে জল ও চা পাতা ফুটলে বুঝি দুধের সমস্ত গুণ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, দুধের ক্যালসিয়াম বা পটাশিয়ামের মতো মৌলিক খনিজ উপাদানগুলি তাপে উবে যায় না ঠিকই, তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়।

গবেষণায় কী কী বৈজ্ঞানিক তথ্য মিলল?

ক্যালসিয়াম শোষণ ব্যাহত হয়: দুধে থাকা ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে অত্যন্ত কার্যকর। কিন্তু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, চা পাতায় উচ্চমাত্রায় থাকে ‘ট্যানিন’ এবং ‘অক্সালেট’। এই উপাদানগুলি দুধের ক্যালসিয়ামের সঙ্গে বিক্রিয়া করে অদ্রবণীয় যৌগ তৈরি করে। ফলে দুধে ক্যালসিয়াম মজুত থাকা সত্ত্বেও শরীর তা কার্যকরভাবে শোষণ করতে পারে না।

ভিটামিনের অপচয়: দুধে ভিটামিন বি১২ ও ভিটামিন ডি থাকে, যা স্নায়ুকে চাঙ্গা রাখতে এবং অবসাদ কাটাতে সাহায্য করে। কিন্তু আমাদের দেশে যেভাবে দুধ, চা পাতা ও চিনি একসঙ্গে দীর্ঘক্ষণ টগবগ করে ফোটানো হয়, তাতে তাপে ভিটামিন বি১২-এর মতো সংবেদনশীল পুষ্টি উপাদানগুলির অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়।

প্রোটিন ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের লড়াই: চায়ের নিজস্ব শক্তি হল ক্যাটেচিন জাতীয় অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, আর দুধের শক্তি হল কেসিন প্রোটিন। ইউরোপীয় গবেষকদের একাংশের সমীক্ষায় উঠে এসেছে, দুধের কেসিন প্রোটিন চায়ের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। একই সঙ্গে এই জটিল সংমিশ্রণ প্রোটিন হজমেও বাধা সৃষ্টি করে।

হজমে সমস্যা ও গ্যাস: চা পাতার ক্যাফেইন ও ট্যানিনের সঙ্গে দুধের ফ্যাট মিশে পাকস্থলীতে অ্যাসিডের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে খালি পেটে দুধ চা খেলে বুকজ্বালা, অম্বল ও পেট ফাঁপার সমস্যা বাড়ে। যাঁদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও জটিল রূপ নেয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের বক্তব্য পরিষ্কার, দুধ চা মূলত স্বাদের জন্য, দুধের ঘাটতি মেটানোর জন্য নয়। দুধের খাঁটি প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের উপকার পেতে হলে দুধ আলাদাভাবে পান করাই শ্রেয়। আর চায়ের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের পূর্ণ সুফল পেতে লিকার চা বা গ্রিন টি-ই সবচেয়ে বিজ্ঞানসম্মত উপায়।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us