
রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই একটা চিরপরিচিত চিন্তা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, ‘আজ তিন বেলা কী রান্না হবে?’ সকালে তাড়াহুড়ো করে জলখাবার বানানো, আর তারপর আবার দুপুর ও রাতের পদের চিন্তা করতেই যেন রান্নাঘরের চার দেয়ালে পুরো দিন কেটে যায়। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ কিংবা ছোট পরিবারে এই নিয়ে ঝক্কির শেষ নেই। তবে এই ঝঞ্জাট থেকে মুক্তি পেতে পারেন স্মার্ট কুকিং (Smart Cooking) কৌশলে। সামান্য পরিকল্পনা করে যেকোনও সবজির তরকারি (যেমন: আলু, গাজর, ফুলকপি) অনেকটা পরিমাণে রেঁধে নিলে তা দিয়েই সারাদিনের তিন বেলার চমৎকার পদ তৈরি সম্ভব। এতে যেমন সময় ও গ্যাস বাঁচবে, তেমনই কমবে অপচয়!
সকালের শুরুতে আলু, গাজর কিংবা ফুলকপি ছোট ছোট করে কেটে পেঁয়াজ, জিরে ও সামান্য মশলা দিয়ে একটা মুখরোচক শুকনো ভাজা বা তরকারি বানিয়ে নিন। সেখান থেকে খানিকটা আলাদা পাত্রে তুলে রাখুন। রান্না করা এই সবজি সামান্য চটকে নিয়ে তার সঙ্গে কাঁচা লঙ্কা ও ধনেপাতা কুচি মিশিয়ে আটার লেচির ভেতরে ভরে দিন। চাটুতে সামান্য তেল বা ঘি দিয়ে ভেজে নিলেই তৈরি গরম গরম আলুর বা ফুলকপির পুরভরা পরোটা।
দুপুরের খাবারে সকালে বানিয়ে রাখা মূল তরকারিটিই পরিবেশন করুন ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত, পাতলা ডাল আর রুটির সঙ্গে। থালিটিকে আর একটু আকর্ষণীয় করতে পাশে এক বাটি দই, রায়তা বা তাজা স্যালাড রেখে দিন। এতে রান্না না বাড়িয়েই খাবারের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ বহুগুণ বেড়ে যাবে।
আর রাতের খাবারে বেঁচে যাওয়া তরকারিটিকে দিন একদম নতুন চমক! কড়াইতে পেঁয়াজ, টমেটো, আদা-রসুন বাটা দিয়ে ভালো করে কষিয়ে একটা গ্রেভি বানিয়ে নিন। এরপর বেঁচে যাওয়া সবজি আর সামান্য গরম মশলা ছিটিয়ে ফুটিয়ে নিলেই তৈরি একদম রেস্তোরাঁ স্টাইলের মাখোমাখো তরকারি। চাইলে এই সবজি ডিম বা পনিরের সঙ্গে সঁতে করে বানিয়ে নিতে পারেন সুস্বাদু ভেজিটেবল রোল বা ফ্রাইড রাইস।
পরিপাক ও জীবনধারা সংক্রান্ত বিষয়ক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই ধরনের বুদ্ধিদীপ্ত মিল প্রিপারেশন কেবল দৈনন্দিন রান্নার মানসিক চাপ কমায় না, খাবার নষ্ট হওয়াও পুরোপুরি বন্ধ করে। একটু বুদ্ধি খরচ করলেই রোজকার সাধারণ খাবারও হয়ে উঠবে চমৎকার ও মুখরোচক!