
রাস্তায় বেরোলেই ধুলোবালি, ধোঁয়া আর দূষণের প্রথম কোপটি পড়ে আমাদের চুলে। ফলে চুল হয়ে ওঠে জটপাকানো, রুক্ষ এবং প্রাণহীন; দেখা দেয় দোফলা চুলের সমস্যাও। দুর্গাপুজো কড়া নাড়ছে দুয়ারে, তাই পার্লারের রাসায়নিক উপাদানে ভরা দামী ট্রিটমেন্টের বদলে ঘরোয়া পথেই ফেরানো যাক চুলের প্রাকৃতিক জেল্লা। আর চুলের পুষ্টিতে ডিমের (Egg Hair Mask) চেয়ে উপকারী উপাদান বোধহয় দ্বিতীয়টি নেই। প্রোটিন, ফ্যাট এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিনে ভরপুর ডিম চুলকে গভীরে গিয়ে কন্ডিশন করে।
তবে ডিমের হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করার ক্ষেত্রে একটাই বড় বাধা—এর কড়া আঁশটে গন্ধ! অনেক সময় শ্যাম্পু করার পরও এই গন্ধ চুলে থেকে যায়। চিন্তার কিছু নেই, ডিমের সঙ্গে কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদান মিশিয়ে নিলেই দূর হবে এই দুর্গন্ধ, আর চুলও পাবে দ্বিগুণ পুষ্টি।
১. একটি ডিমের সঙ্গে দুই টেবিল চামচ টক দই এবং এক চা চামচ মধু ভালো করে ফেটিয়ে নিন। দই চুলের খসখসে ভাব দূর করে আর মধু লক করে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা। চুলের স্ক্যাল্প থেকে ডগা পর্যন্ত এই প্যাক লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর ঠান্ডা জলে ধুয়ে শ্যাম্পু করে নিন।
২.একটি ডিমের মধ্যে দুই টেবিল চামচ তাজা অ্যালোভেরা জেল এবং কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিন। অ্যালোভেরা চুলকে সিল্কি করে এবং লেবুর সাইট্রাস গুণ ডিমের বাজে গন্ধ এক নিমেষে দূর করে। ১৫-২০ মিনিট মাথায় রেখে ধুয়ে ফেলুন। তবে মাথায় কোনও অ্যালার্জি বা ক্ষত থাকলে লেবু এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
৩.একটি পাকা কলা ভালোভাবে পেস্ট করে তার সঙ্গে ডিম মিশিয়ে নিন। কলার নিজস্ব চমৎকার গন্ধ ডিমের গন্ধকে একদম চেপে দেয় এবং এটি চুলের শুষ্কতা দূর করতে দারুণ কার্যকরী। চুলে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন।
৪. একটি ডিমের সঙ্গে তিন টেবিল চামচ নারকেলের দুধ মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। নারকেলের দুধ চুলকে ভেতর থেকে পুষ্টি জোগায় ও প্রাকৃতিকভাবে স্ট্রেইট ও নরম করতে সাহায্য করে। এই মাস্কটি চুলে ২০ মিনিটের বেশি রাখবেন না, তারপর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
৫.একটি ডিমের সঙ্গে এক টেবিল চামচ কফি পাউডার এবং এক টেবিল চামচ দই মিশিয়ে নিন। কফির তীব্র ও সুমিষ্ট সুবাস ডিমের দুর্গন্ধকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলে। এই প্যাকটি ১৫-২০ মিনিট রেখে ঠান্ডা জলে ভালো করে চুল ধুয়ে নিন।
জরুরি টিপস: ডিমের হেয়ার মাস্ক ধোয়ার জন্য ভুলেও গরম বা ঈষদুষ্ণ জল ব্যবহার করবেন না। গরম জল পেলে ডিম চুলে জমে গিয়ে আটকে যাবে এবং গন্ধও থেকে যাবে। সবসময় স্বাভাবিক ঠান্ডা জল দিয়েই চুল ধোবেন।