
কলকাতা: চায়ের ঠেক থেকে বাস হোক বা ট্রেন, রাজ্যে সর্বত্রই জোরদার চর্চায় ডিম। ডিমের (Egg) পুষ্টিগুণ বিচারে অনেকেই ডিমকে সস্তার সবথেকে সুপারফুডও বলে থাকেন। তবে সেই ডিম যদি পচা হয়, তাহলে তা উপকারের চেয়ে স্বাস্থ্যের বেশি ক্ষতি করতে পারে। আজকাল বাজারে কিংবা অনলাইন ডেলিভারিতে (Online Delivery) প্রায়ই খারাপ ডিম নিয়ে গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ শোনা যায়। আবার অনেক সময় ফ্রিজে দীর্ঘদিন ধরে রাখা ডিমটিও খাওয়ার উপযুক্ত কি না, তা বুঝতেও আমাদের বেশ বেগ পেতে হয়।
একটি গ্লাসে ঠান্ডা জল নিন। তাতে ডিমটি পুরোপুরি ডুবিয়ে দিন। যদি ডিমটি পাত্রের তলায় আড়াআড়িভাবে সোজা হয়ে শুয়ে থাকে, তবে বুঝবেন এটি একদম তাজা। আবার ডিমটি জলের নিচে থাকলেও যদি একপাশ থেকে কিছুটা খাড়া হয়ে থাকে, তবে বুঝতে হবে ডিমটি পুরনো হচ্ছে, তবে এটি খাওয়ার অযোগ্য নয়। আর ডিমটি যদি জলের উপরে ভাসতে শুরু করে, তবে সেটি ভুল করেও খাবেন না। কারণ ডিমের ভেতর গ্যাস তৈরি হওয়ায় তা ভেসে ওঠে, যার অর্থ ডিমটি পচে গিয়েছে।
ডিমের ভিতরের তরলের আওয়াজ শুনেও এর অবস্থা বোঝা সম্ভব। ডিমটি আপনার কানের কাছে নিয়ে আলতো করে ঝাঁকান। তাজা ডিমের ভিতর থেকে সাধারণত কোনও আওয়াজ আসে না। এমনিতে এর ভেতরের অংশ ঘন ও টানটান থাকে। যদি ঝাঁকানোর সময় ভিতরে জল নড়ার মতো বা ছলছল শব্দ শুনতে পান, তবে বুঝবেন ডিমকে নষ্ট হতে বসেছে।
একটি অন্ধকার ঘরে ডিমের একপাশে জ্বলন্ত টর্চের আলো বা মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট ধরুন। ডিম যদি তাজা হয়, তবে আলোর বিপরীতে তার ভেতরের অংশ খুব একটা স্পষ্ট দেখা যাবে না। কিন্তু ডিম যদি নষ্ট হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে তার ভেতরে থাকা ‘এয়ার পকেট’ আকারে বেশ বড় দেখাবে।
তাজা ডিমের খোসা সাধারণত পরিষ্কার, মসৃণ এবং সামান্য খসখসে হয়। যদি ডিমের খোসায় কোনো ফাটল, চটচটে ভাব বা পাউডারের মতো আস্তরণ দেখা যায়, তবে বুঝবেন এটি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বা ফাঙ্গাসের লক্ষণ। এই ধরনের ডিম ব্যবহার করা একদমই উচিত নয়।