
বাচ্চাদের ত্বক মানেই তুলতুলে, নরম আর স্পর্শকাতর। কিন্তু সেই আদুরে ত্বকেই যখন কড়া রোদের প্রভাব পড়ে তখন বিপদটা শুধু গায়ের রঙেরই হয় না। বড়দের মতো শিশুদের ত্বকেও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি বা ইউভি (UV) রশ্মি নিঃশব্দে ক্ষতি করে চলে। তবে সমস্যা হল, বড়দের সানস্ক্রিন আর ছোটদের সানস্ক্রিন কিন্তু এক নয়। না জেনে ভুল ক্রিম মাখালে হিতে বিপরীত হওয়ার ঝুঁকির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
অনেক বাবা-মা ভাবেন, জন্মের পর থেকেই বুঝি সানস্ক্রিন মাখানো যায়। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে অন্য কথা। ‘আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ ডার্মাটোলজি’ এবং ‘ইন্ডিয়ান অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স’-এর মতে, ৬ মাসের কম বয়সি শিশুদের সরাসরি কড়া রোদে না বের করাই ভালো। সানস্ক্রিনের চেয়ে তাদের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক আর ছায়ায় রাখা বেশি কার্যকর। তবে শিশুর বয়স ৬ মাস পার হলেই আপনি নিশ্চিন্তে সানস্ক্রিন ব্যবহার শুরু করতে পারেন।
দোকানে গিয়ে শুধু দামী ব্র্যান্ড দেখে কিনবেন না। শিশুদের জন্য ‘মিনারেল’ সানস্ক্রিন বেছে নেওয়া জরুরি। কেন? কারণ এই সানস্ক্রিনে থাকে জ়িঙ্ক অক্সাইড (Zinc Oxide) বা টাইটানিয়াম ডাইঅক্সাইড (Titanium Dioxide)। এগুলি ত্বকের ভেতরে প্রবেশ করে না, বরং ত্বকের ওপর একটি অদৃশ্য আয়নার মতো কাজ করে রোদকে প্রতিফলিত করে দেয়।
অন্যদিকে, বড়দের কেমিক্যাল সানস্ক্রিনে অক্সিবেঞ্জোনের (Oxybenzone) মতো উপাদান থাকে, যা শিশুদের পাতলা ত্বকের জন্য অ্যালার্জি বা হরমোনের সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই কেনার আগে প্যাকেটের গায়ে ‘Paraben-free’ এবং ‘Fragrance-free’ লেখা আছে কি না, অবশ্যই যাচাই করে নিন।
কেবল ঘুরতে যাওয়ার সময় সানস্ক্রিন মাখালে কাজ হবে না। রোদে বেরোনোর অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে এটি মাখাতে হবে। শুধু মুখ নয়, কানের লতি, হাতের পিঠ এবং পায়ের পাতাতেও প্রলেপ দিতে ভুলবেন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি শিশু দীর্ঘক্ষণ রোদে খেলে বা সুইমিং পুলে থাকে, তবে প্রতি ২ ঘণ্টা অন্তর পুনরায় সানস্ক্রিন মাখানো উচিত। মনে রাখবেন, এসপিএফ (SPF) ৩০-এর বেশি হওয়া বাঞ্ছনীয়, যা কি না প্রায় ৯৭ শতাংশ ক্ষতিকর রশ্মি রুখে দিতে পারে।
অতিবেগুনি রশ্মি কিন্তু সবসময়ই সক্রিয়। তাই আপনার আদরের সন্তানের ত্বকের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে আজই ব্যাগে ভরে নিন সঠিক সানস্ক্রিন।