
মেথি (Fenugreek) ভেজানো জল দিয়ে কি আপনার দিন শুরু হয়? ওজন কমানো হোক বা সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা, আজকাল অনেকেই সকালে খালি পেটে মেথি জল খান। মেথিতে প্রচুর ফাইবার, আয়রন আর ভিটামিন সি আছে, সে কথা সত্যি। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, সবার শরীরের জন্য এটি ভালো না-ও হতে পারে? বিখ্যাত ডায়াবেটোলজিস্ট ডা. বিপুল সতর্ক করেছেন যে, মেথি অনেকের জন্য রীতিমতো ক্ষতিকর। কিছু বিশেষ শারীরিক সমস্যা থাকলে এই মেথি থেকেই বড় বিপদ ঘটে যেতে পারে। কাদের মেথি খাওয়া থেকে দূরে থাকা দরকার?
হবু মা ও সদ্য মায়েদের জন্য
গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রোজ মেথি খাওয়া একদমই উচিত নয়। চিকিৎসকদের মতে, এর ফলে জরায়ুর সংকোচন হতে পারে, তাই গর্ভাবস্থায় মেথি এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ। যাঁরা সদ্য মা হয়েছেন, তাঁরাও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি খাবেন না।
সামনেই কি কোনও অপারেশন আছে?
আপনার যদি আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে কোনও অপারেশন বা সার্জারি হওয়ার কথা থাকে, তবে মেথি খাওয়া আজই বন্ধ করুন। কারণ মেথি আমাদের রক্ত জমাট বাঁধার কাজকে ধীর করে দেয়। ফলে অপারেশনের সময় বা তার পরে অতিরিক্ত রক্তপাত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। যাঁদের রক্ত পাতলা করার ওষুধ চলছে, তাঁদেরও মেথি এড়িয়ে চলা দরকার। মেথি আর ওষুধ একসঙ্গে শরীরে গেলে রক্ত অতিরিক্ত পাতলা হয়ে বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
পেটের গোলমাল বা সমস্যা থাকলে
সাধারণ গ্যাসের সমস্যায় মেথি হয়তো কিছুটা আরাম দেয়, কিন্তু যাঁদের আইবিএস (IBS) বা পেটের ক্রনিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য এটি মোটেও ভালো নয়। রোজ মেথি খেলে পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া বা পেটে ব্যথা আরও বেড়ে যেতে পারে।
সুগার ও থাইরয়েড রোগীদের সতর্কতা
মেথি খুব দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। কিন্তু যাঁরা সুগারের জন্য ইতিমধ্যেই ইনসুলিন বা কড়া ওষুধ নিচ্ছেন, তাঁরা রোজ মেথি খেলে সুগার লেভেল হঠাৎ করে বিপজ্জনক মাত্রায় কমে যেতে পারে। তাই সুগার লেভেল সব সময় মেপে দেখা জরুরি।
অন্যদিকে, যাঁরা থাইরয়েডের ওষুধ খান, তাঁদেরও সতর্ক হওয়া দরকার। থাইরয়েডের ওষুধ এবং মেথি খাওয়ার মধ্যে অন্তত ২ ঘণ্টার ব্যবধান রাখা ভীষণ জরুরি। কারণ মেথির মধ্যে থাকা ফাইবার থাইরয়েডের ওষুধকে শরীরে ঠিকমতো মিশতে বাধা দেয়।
সব শেষে বলা যায়, মেথি অনেক উপকারী হলেও সবার জন্য তা অমৃত নয়। দীর্ঘস্থায়ী কোনও অসুখ থাকলে রোজকার ডায়েটে মেথি যোগ করার আগে আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে অবশ্যই একবার কথা বলে নিন।