
ব্যথানাশক ওষুধ বা পেইনকিলার এখন অনেকেরই নিত্যদিনের সঙ্গী। একটু মাথা ধরল, কিংবা কোমরে বা গাঁটে ব্যথা হল, অমনি একটা ব্যথার ওষুধ খেয়ে নেওয়ার অভ্যাস দেখা যায় ঘরে ঘরে। মনে হয়, ব্যথা তো কমল! কিন্তু এই সাময়িক আরামের চক্করে শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। চিকিৎসকরা বারবার সতর্ক করছেন যে, ঘন ঘন ব্যথার ওষুধ খাওয়ার এই অভ্যাস কিডনিকে একেবারে নিঃশব্দে শেষ করে দেয়।
কী বলছেন চিকিৎসকরা?
যশোদা মেডিসিটির নেফ্রোলজি বিভাগের প্রিন্সিপাল ডিরেক্টর ডাঃ এল. কে. ঝা জানিয়েছেন, এমন প্রচুর রোগী তাঁদের কাছে আসেন, যাঁদের কিডনি খারাপ হওয়ার প্রধান কারণই হল এই যথেচ্ছভাবে ব্যথার ওষুধ খাওয়া। অনেকেই আছেন, যাঁদের কখনও কোনও ব্যথার জন্য ডাক্তার হয়তো একটি ওষুধ দিয়েছিলেন। এরপর ভবিষ্যতে যখনই ওই ধরনের ব্যথা হয়, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই তাঁরা একই ওষুধ দোকান থেকে কিনে খেতে থাকেন।
ক্ষতিটা ঠিক কীভাবে হয়?
ডাঃ ঝা জানাচ্ছেন, বেশ কিছু ব্যথার ওষুধ কিডনিতে রক্ত চলাচলের স্বাভাবিক গতি কমিয়ে দেয়। দিনের পর দিন ভুলভাবে এই ওষুধ খেলে কিডনির কাজ করার ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবেটিস বা হাই ব্লাড প্রেশার আছে, তাঁদের কিডনির ওপর এমনিতেই চাপ থাকে। এর সঙ্গে যদি ইচ্ছামতো পেইনকিলার খাওয়া হয়, তবে বিপদ আরও বাড়ে। বয়স্ক মানুষ এবং যাঁদের আগে থেকেই কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও এই ঝুঁকি সাংঘাতিক।
বিপদ বাড়ে জলের ঘাটতিতেও
আরও একটি বড় বিপদের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন ওই হাসপাতালেরই রেনাল ট্রান্সপ্লান্ট বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডাঃ প্রজিত মজুমদার। তিনি জানান, শরীরে জলের ঘাটতি থাকলে এই ওষুধগুলো আরও বেশি ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। বমি বা পেট খারাপ হলে, কিংবা প্রচণ্ড জ্বরে শরীর শুকিয়ে গেলে শরীরে জলের অভাব দেখা দেয়। এমন অবস্থায় পর্যাপ্ত জল না খেয়ে ব্যথার ওষুধ খেলে কিডনি চরম ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হল, কিডনি নষ্ট হওয়ার শুরুতে বাইরে থেকে কোনও লক্ষণই বোঝা যায় না। রোগী দিব্যি সুস্থ বোধ করেন। এরপর অন্য কোনও কারণে রক্ত পরীক্ষা করতে গিয়ে হঠাৎ ধরা পড়ে যে ক্রিয়েটিনিন অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। তখন আর বিশেষ কিছু করার থাকে না।
তাই কখনও খুব দরকার পড়লে একটা ওষুধ খাওয়া যেতেই পারে, কিন্তু দিনের পর দিন নিয়ম করে পেইনকিলার খাওয়া মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া একাবারেই ব্যথার ওষুঘ খাওয়া উচিৎ নয়। ব্যথা বারবার ফিরে এলে শুধু ওষুধ দিয়ে তা না চেপে রেখে, আসল কারণ খুঁজে বের করে দ্রুত সঠিক চিকিৎসা করানোই একমাত্র পথ।