
মহিলাদের স্বাস্থ্য (Women Health) নিয়ে সচেতনতা আজকাল বাড়লেও, পরিবারের সবার খেয়াল রাখতে গিয়ে নিজের খাওয়া-দাওয়ার দিকে নজর দেওয়ার সময় পান না অধিকাংশ নারীই। বিশেষ করে বয়স ৩৫ পার হওয়ার পর এই অবহেলাই ডেকে আনে বড় বিপদ। এই বয়সের পর শরীরভেদে পুষ্টির চাহিদাও বদলে যায়। দিল্লির দ্বারকার ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ক্লিনিকাল নিউট্রিশনিস্ট(Clinical Nutrition) ও ডায়েটেটিক্স বিশেষজ্ঞ উপাসনা পর্ব কালরা জানিয়েছেন, ৩৫-এর পর মহিলাদের শরীরে হুট করে ওজন বৃদ্ধি, ক্লান্তি কিংবা হাড়ের দুর্বলতার মতো সমস্যা দেখা দেয়। তবে এর জন্য কোনও দামি সাপ্লিমেন্ট নয়, বরং রোজকার লাইফস্টাইলে ছোট কিছু বদল আনলেই সুস্থ থাকা সম্ভব।
ব্রেকফাস্টে আসুক বদল
বেশিরভাগ বাঙালি বাড়িতে সকালের শুরুটা হয় চা আর বিস্কুট দিয়েই। তবে বিশেষজ্ঞের মতে, এই অভ্যাসে বদল আনা জরুরি। প্রাতঃরাশে বিস্কুটের বদলে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ফাইবার থাকা দরকার। এর জন্য পাতে রাখতে পারেন ডিম, টক দই, পনির কিংবা অঙ্কুরিত ছোলা ও ডাল। এগুলো দীর্ঘক্ষণ শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
মরশুমের ফল
ফল কেবল অসুস্থ হলেই খেতে হবে, এই ধারণা একদম ভুল। শরীরকে ভেতর থেকে চাঙ্গা রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় নানা রঙের মরশুমের ফল ও শাকসবজি রাখা চাই। বিশেষ করে গরমের দিনে তরমুজ, লিচু, জামের মতো ফল শরীরকে হাইড্রেটেড রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল সরবরাহ করে।
ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-র যুগলবন্দি
৩৫ বছর বয়সের পর থেকেই মহিলাদের হাড়ের ঘনত্ব বা বোন ডেনসিটি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। এই ঘাটতি মেটাতে ডায়েটে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার রাখা বাধ্যতামূলক। দুধ, দই ও পনির খাওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন নিয়ম করে অন্তত কিছুটা সময় রোদে কাটানো উচিত, যা শরীরে ভিটামিন ডি তৈরিতে সাহায্য করবে।
আয়রনের অভাব দূর করুন
মহিলাদের মধ্যে অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতার সমস্যা অত্যন্ত সাধারণ। শরীরে আয়রনের সঠিক জোগান না থাকলে সারাক্ষণ ক্লান্তি ও মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এই সমস্যা এড়াতে সবুজ শাকসবজি, ডাল, রাজমা ও গুড় খাওয়া শুরু করুন। তবে মনে রাখবেন, শরীর যাতে আয়রন ঠিকঠাক শোষণ করতে পারে, তার জন্য এই খাবারগুলোর সঙ্গে পাতিলেবু বা যে কোনও সাইট্রাস ফল খাওয়া জরুরি।
ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার
আজকাল আল্ট্রা-প্রসেসড ফুড বা ময়দা দিয়ে তৈরি খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ায় অনেকেরই শরীরে ফাইবারের ঘাটতি। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য ও ওজন বাড়ার সমস্যা দেখা দেয়। তাই ময়দা বা সাদা ব্রেড এড়িয়ে ওটস, জোয়ার, বাজরা কিংবা রাগির মতো দানাশস্য ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করুন। এর সঙ্গে নুন-চিনির পরিমাণ কমানো, দিনে পর্যাপ্ত জল খাওয়া এবং ৭-৮ ঘণ্টার ভালো ঘুম সুস্থ থাকার জন্য অত্যন্ত জরুরি।