
ওটস (Oats) এখন আর পাঁচটা সাধারণ খাবারের মতো নয়, বরং আধুনিক লাইফস্টাইলে সুপারফুড হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। সকালের ব্যস্ত সময়ে চটজলদি পুষ্টি পেতে অনেকেই এখন পরোটা বা পাউরুটির বদলে বাটি ভরতি ওটসের ওপর ভরসা রাখছেন। কেউ ওটসের খিচুড়ি পছন্দ করছেন, আবার কেউ রাতে দুধ-দইয়ে ভিজিয়ে রাখা ‘ওভারনাইট ওটস’ খাচ্ছেন। কিন্তু প্রতিদিন নিয়ম করে এই খাবারটি পেটে গেলে শরীরের অন্দরে ঠিক কী ধরনের বদল আসে? চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং গ্যাস্ট্রো বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টানা এক মাস যদি সকালের ব্রেকফাস্টে ওটস রাখা যায়, তবে স্বাস্থ্যের এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
কী কী বদল আসে শরীরে?
হজমশক্তির উন্নতি ও কোষ্ঠকাঠিন্য মুক্তি: ওটসে রয়েছে ‘বেটা-গ্লুক্যান’ নামের এক বিশেষ ধরনের দ্রবণীয় ফাইবার। গবেষকদের মতে, এই উপাদানটি খাদ্যনালীতে গিয়ে একটি পিচ্ছিল স্তর তৈরি করে, যা মলত্যাগ সহজ করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের অবসান ঘটায়। শুধু তাই নয়, এই ফাইবার পাকস্থলীতে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়াদের প্রধান খাদ্য। ফলে হজম ক্ষমতা বাড়ে বহুগুণ।
ওজন নিয়ন্ত্রণ ও মেদ ঝরানো: ওজন কমানোর লড়াইয়ে ওটস এক দারুণ হাতিয়ার। এটি খাওয়ার পর শরীর থেকে বিশেষ কিছু হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে, যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে অসময়ে ভাজাভুজি বা অতিরিক্ত ক্যালরি খাওয়ার ইচ্ছেটা নিজে থেকেই মরে যায়। মেটাবলিজম বাড়াতে এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দিতেও এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ: ডায়াবিটিস রোগীদের ক্ষেত্রেও ওটস রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে বাড়তে দেয় না, কারণ এটি শরীরে খুব ধীরে ধীরে শোষিত হয়।
তবে চিকিৎসকদের একটি পরামর্শ মাথায় রাখা জরুরি, ওটস খাওয়ার পাশাপাশি সারা দিনে পর্যাপ্ত জল না খেলে কিন্তু উল্টে পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার ওটসকে তখনই উপকারী বলা যাবে, যখন এতে কৃত্রিম চিনি বা ফ্লেভারড সিরাপ মেশানো হবে না। পুষ্টিগুণ ধরে রাখতে রোলড ওটসের সঙ্গে টক দই, তাজা ফল এবং সামান্য দারচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে নেওয়া সবচেয়ে ভালো। চিকিৎসকদের মতে, রান্না করা ওটস আর ভিজিয়ে রাখা ওটসের পুষ্টিগুণ সমান হলেও, রাতে ভিজিয়ে রাখলে এর ফাইটিক অ্যাসিড কমে যায়, যা শরীরের খনিজ শোষণে সাহায্য করে। তবে মনে রাখবেন, ডায়েটে বৈচিত্র্য রাখা জরুরি, তাই শুধু ওটস নয়, ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারও তালিকায় রাখুন।