
হেঁচকি (Hiccups) শুরু হলে যেন থামতেই চায় না! পরপর কয়েকটা হেঁচকি ওঠার পর গলার ভেতরটা কেমন একটা করে ওঠে। পাশে থাকা মানুষটি তৎক্ষণাৎ বলেন, “জল খেয়ে নাও।” কিন্তু অনেক সময় গ্লাসের পর গ্লাস জল খেয়ে ফেললেও লাভ বিশেষ কিছু হয় না। আপনি কি জানেন, এই বিরক্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার খুব সহজ একটি বৈজ্ঞানিক পথ রয়েছে? কোনও ওষুধ ছাড়াই, কেবল জিভের নিচে একটি সাধারণ জিনিস রাখলেই মাত্র ১০ সেকেন্ডে ম্যাজিকের মতো বন্ধ হয়ে যেতে পারে হেঁচকি!
হঠাৎ কেন ওঠে এই হেঁচকি? আমাদের বুকের নিচে ‘ডায়াফ্রাম’ নামের একটি পেশি থাকে। এটি যখন হঠাৎ করে সংকুচিত হয়ে যায়, তখনই ফুসফুসে দ্রুত বাতাস ঢুকে ভোকাল কর্ড বন্ধ হয়ে ‘হেঁচ’ শব্দ তৈরি করে। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, এই পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে ‘ভেগাস নার্ভ’ (Vagus Nerve)। এটি আমাদের মস্তিষ্ক থেকে পেট পর্যন্ত ছড়ানো এক বিশেষ স্নায়ু।
তাহলে উপায় কী? গবেষকদের মতে, এই ভেগাস নার্ভকে একটু চমকে বা ‘স্টিমুলেট’ করে দিতে পারলেই হেঁচকি নিমেষে থেমে যায়। এর জন্য আপনাকে শুধু এক চিমটি চিনি বা একটু মিছরির টুকরো জিভের নিচে রাখতে হবে।
জিভের নিচে মিষ্টি কিছু রাখলে মুখের ভেতরের মিষ্টি স্বাদের অনুভূতি সরাসরি ভেগাস নার্ভে একধরনের সিগন্যাল পাঠায়। এতে মস্তিষ্ক হেঁচকির কথা ভুলে গিয়ে নতুন মিষ্টি স্বাদের সংকেত নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। একে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ডাইভারশন বা রিফ্লেক্স রিসেট।
এটি কেবল কথার কথা নয়, এর পেছনে রয়েছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রমাণও। ১৯৭১ সালে ডঃ এডগার এঙ্গেলম্যান (Dr. Edgar Engelman) প্রথম এই বিষয়ে একটি গবেষণা চালান, যা বিখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ‘দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন’ (The New England Journal of Medicine – NEJM)-এ প্রকাশিত হয়েছিল। সেই গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কেবল এক চামচ চিনি বা জিভের নিচে মিষ্টি জাতীয় কিছু রাখলেই ভেগাস নার্ভের কার্যকারিতা বদলে যায়। ফলে ডায়াফ্রামের খিঁচুনি নিমেষে শান্ত হয়ে যায়।
পরের বার জল খেয়ে কাজ না হলে সোজা রান্নাঘরে যান। গবেষণার থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সামান্য চিনি জিভের নিচে রেখে ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড শান্ত হয়ে বসে থাকুন। জল না গিলে চিনিটা আস্তে আস্তে মুখে গলতে দিন। দেখবেন, কোনও ঝামেলা ছাড়াই আপনার হেঁচকি গায়েব হয়ে গিয়েছে।