
কলকাতা : আমরা অনেকেই স্মার্টফোন ব্যবহার করি। এবং ফোন খোলার জন্য অনেকেই নানা রকম পাসওয়ার্ড ব্যবহার করি। কেউ পাসওয়ার্ড, কেউ প্যাটার্ন বা কেউ ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা কেউ আবার ফেসলক। কিন্তু কিভাবে একটি ক্যামেরা মানুষের মুখ চিনতে পারে? এর নেপথ্যে কি কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা আছে? নাকি এর পিছনের গল্পটা অন্য?
ফেস আনলক কী?
ফোনের সামনে থাকা ক্যামেরা প্রথমে আপনার মুখ দেখতে পায়। এরপর ফোনের সফ্টওয়ার মুখের নান অংশের দিকে নজর দেয়। যেমন – আপনার চোখ কোথায়, দুই চোখের মধ্যে কতটা দূরত্ব, নাকের আকার, ঠোঁটের অবস্থান। এই তথ্যগুলি একত্র করে আপনার মুখের একটি ডিজিটাল পরিচয় তৈরি হয়। আপনি প্রথমবার ফেস আনলক ফিচার অন করার সময় আপনার মুখমন্ডলের যাবতীয় তথ্য জমা হয়ে যায় ফোনের অন্দরমহলে। তবে ক্যামেরার চারপাশের আলো বৈদ্যুতিক সংকেতে ট্রান্সফর্ম করে নেয়। এবার অসংখ্য পিক্সেল তৈরি করা হয়। সেই পিক্সেলে যেমন থাকে রং, তেমন থাকে তথ্য। অর্থাৎ ক্যামেরা বা আপনার ফোনের চোখে আপনার মুখ কেবল কতগুলি সংখ্যা ছাড়া কিছুই নয়। এরপর যতবার আপনি সেই ফোন খুলতে যান, ফোনের সফ্টওয়ার আপনার মুখের তথ্য ম্যাচ করিয়ে দেখে যে আগের তথ্যের সঙ্গে বর্তমান তথ্য মিলছে কি না।
এটি মূলত দুই রকম। একটি, ফেস রিকগনিশন ও ফেস ডিটেকশন। ফেস ডিটেকশন হচ্ছে, কোনও ছবির মধ্যে কোথায় মানুষের মুখ দেখা যাচ্ছে। ফেস রিকগনিশন হল, একটি মুখ আগে থেকেই রাখা কোনও মুখের সঙ্গে মিলছে কি না।
অন্ধকারেও কিভাবে ফেস আনলক কাজ করে?
অনেক আধুনিক ফোনে শুধু সাধারণ ক্যামেরা থাকে না। তাতে ফিট করা থাকে ইনফ্রারেড ক্যামেরা বা বিশেষ সেন্সর। এগুলো কম আলোতেও মুখ শনাক্ত করতে সাহায্য করে। তবে সব ফোনের ফেস আনলক নিয়ম এক নয়। তবে এখানেই আসে একটা প্রশ্ন। ছবি দেখিয়ে কি ফোন খোলা যায়? উত্তর হল, না। এখন প্রায় সব ফোনেই liveness detection থাকে ফলে আপনার নড়াচড়াও স্ক্যান করা হয়। সেখানে ম্যাচ না হলে আপনার ফোন খুলবে না। তবে এখন যা অবস্থা, তাতে নিরাপত্তার কারণবশত ফেস আনলক ব্যবহার করার পাশাপাশি একটি শক্তিশালী পাসকোড বা পিন রাখা খুব জরুরি।