
বৈশাখের তপ্ত রোদে নাজেহাল জনজীবন। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গরমের দাপট এখনই কমছে না। এই অসহ্য গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণ জল ও খনিজ বেরিয়ে যায়। ফলে দেখা দেয় ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতা, যা থেকে হিটস্ট্রোকের মতো মারাত্মক সমস্যাও হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সুস্থ থাকতে জল খাওয়ার সঠিক পরিমাণ জানা অত্যন্ত জরুরি।
সাধারণত একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে ৩ থেকে ৪ লিটার জল পান করা উচিত। তবে এই পরিমাণ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। যাঁরা দীর্ঘক্ষণ রোদে কাজ করেন বা শারীরিক কসরত করেন, তাঁদের জলের প্রয়োজনীয়তা সাধারণ মানুষের তুলনায় বেশি।
শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে জলের পরিমাণের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে, কারণ তাঁদের শরীর দ্রুত জলশূন্য হয়ে পড়ার প্রবণতা থাকে।
শরীরে জলের অভাব বুঝবেন কীভাবে? শরীর যখন জলশূন্য হয়ে পড়ে, তখন কিছু লক্ষণ প্রকট হয়-
প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হলুদ হওয়া।
মুখ ও ঠোঁট বারবার শুকিয়ে যাওয়া।
মাথা ঘোরা, ক্লান্তি এবং কাজ করার শক্তি হারিয়ে ফেলা।
ত্বক খসখসে হয়ে যাওয়া।
চিকিৎসকদের মতে, তেষ্টা মেটাতে একবারে অনেকটা জল না খেয়ে সারা দিন ধরে অল্প অল্প করে জল খাওয়া বেশি কার্যকর। দীর্ঘক্ষণ জল না খেয়ে থাকা শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক। রোদে বেরোনোর আগে অন্তত এক গ্লাস জল খেয়ে নেওয়া এবং সঙ্গে সবসময় জলের বোতল রাখা জরুরি।
কেবল সাদা জল খেতে ভালো না লাগলে ডাাবের জল, টাটকা ফলের রস (চিনি ছাড়া), ঘোল কিংবা লেবু-জল খাওয়া যেতে পারে। এতে জলের পাশাপাশি শরীরের প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থের ভারসাম্য বজায় থাকে। তবে অতিরিক্ত চা, কফি বা কোল্ড ড্রিঙ্কস এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এগুলি শরীরকে আরও বেশি জলশূন্য করে তোলে।
যাঁদের কিডনি বা হৃদযন্ত্রের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জল পানের পরিমাণ নিয়ে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ অতিরিক্ত জল পান তাঁদের জন্য অনেক সময় সমস্যার কারণ হতে পারে। সুস্থ থাকতে তেষ্টার জন্য অপেক্ষা না করে নিয়মিত ব্যবধানে জল পান করুন। প্রখর গরমে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে এবং কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে জলই আপনার সেরা সঙ্গী।