
মৌরলা মাছ (Mourala Fish) পাতে পড়লে বাঙালির দুপুরের খাওয়াটা একেবারে জমে যায়। সর্ষে দিয়ে চচ্চড়ি হোক বা মুচমুচে ভাজা, এই চুনো মাছের স্বাদই আলাদা। কিন্তু সমস্যা বাঁধে ঠিক তখনই, যখন বাজার থেকে কিনে এনে এগুলো কাটতে বসতে হয়। একে তো সাইজ একেবারে ছোট্ট, তার ওপর আবার নরম শরীর। বঁটি দিয়ে কাটতে গেলে মাছ থেঁতলে পেটের নোংরা মাংসের সঙ্গে মিশে যায়। ছুরি দিয়েও কাটার উপায় নেই। আর বাজারের মাছওয়ালারাও এই পুঁচকে মাছ হাত দিয়ে ছুঁয়েও দেখেন না, কেটে দেওয়া তো দূরের কথা। তবে একটু বুদ্ধি খাটালে বঁটি বা ছুরি ছাড়াই খুব কম সময়ে কিলো কিলো মৌরলা সাফ করে ফেলা যায়।
কী কী ভাবে ছাড়াবেন ছোট্ট মৌরলা মাছ?
হাতের নখ অথবা কাঁচির ব্যবহার: মৌরলা মাছের পাখনা ও কানকো কাটার জন্য কোনও ধারালো অস্ত্রের দরকার নেই, হাতের নখই যথেষ্ট। বুড়ো আঙুল আর তর্জনীর নখ দিয়ে চেপে টান মারলেই কানকো আর পাখনা খসে চলে আসে। যাদের হাত দিয়ে এই কাজ করতে সমস্যা হয়, তারা একটি ছোট কাঁচি দিয়ে নিমেষেই কানকো ও পাখনাগুলো ছেঁটে বাদ দিতে পারেন।
পেটের নোংরা ও নাড়িভুঁড়ি বার করা: মাছের কানকো ছাড়ানোর পর পেটের দিকটায় আঙুল দিয়ে আলতো করে একটু চাপ দিলেই ভেতরের সব নাড়িভুঁড়ি আর ময়লা এক ধাক্কায় বাইরে বেরিয়ে আসবে। এতে মাছ একটুও থেঁতলে যাবে না।
নারকেলের মালার ব্যবহার: মাছের আঁশ তোলার জন্য সবচেয়ে দারুণ উপায় হল শুকনো নারকেলের মালা। বড় একটা ফুটো ফুটো প্লাস্টিকের ঝুড়িতে মাছগুলো নিয়ে কলের জলের তলায় ধরুন। এরপর নারকেলের শক্ত মালাটা দিয়ে মাছের গায়ে গোল গোল করে হালকা হাতে ঘষলেই সব আঁশ খসে নিচে জমা হবে, মাছও আস্ত থাকবে।
প্লাস্টিকের জালি বা গ্লাসের ব্যবহার: খাবার ঢাকা দেওয়ার যে জালি দেওয়া প্লাস্টিকের ঝুড়ি থাকে, তার খসখসে গায়ে মাছগুলো রেখে হাত দিয়ে আলতো ঘষলেও সব আঁশ সহজে উঠে যায়। এছাড়া কাচের গ্লাস বা স্টিলের চামচ লেজ থেকে মাথার দিকে টানলেও আঁশ খুব সুন্দর সাফ হয়ে যায়।
সঠিক পদ্ধতিতে ধোয়া ও আঁশটে গন্ধ দূর করা: চুনো মাছ ধোয়ার সময় বেশি রগড়াবেন না। বড় গামলায় পরিষ্কার জলে চার থেকে পাঁচ বার জল বদলে বদলে মাছ ধুয়ে নিন। এরপর তীব্র আঁশটে গন্ধ ও পিছল ভাব দূর করতে কিছুটা নুন আর পাতিলেবুর রস মাখিয়ে পাঁচ মিনিট রেখে দিন। তারপর শেষবারের মতো ভালো জলে ধুয়ে নিলেই মৌরলা মাছ রান্নার জন্য একদম তৈরি।