
আরশোলা (Cockroach) দেখলেই অনেকের গা ঘিনঘিন করে ওঠে। বিশেষ করে রান্নাঘর বা বাথরুমে যদি এদের দেখা মেলে, তবে বিরক্তির শেষ থাকে না। মনে হয় যেন গোটা বাড়িটাই অপরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, এরা খাবারের সংস্পর্শে এসে নানা রকম ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই সমস্যা থেকে বাঁচতে অনেকেই বাজার থেকে দামি রাসায়নিক স্প্রে কিনে আনেন। কিন্তু তাতে সাময়িকভাবে কাজ হলেও, আবার যে কে সেই! ফ্রিজ বা বেসিনের নিচে ঠিক এদের নতুন আস্তানা গড়ে উঠতে পারে। তবে চিন্তার কোনও কারণ নেই। আপনার রান্নাঘরেই এমন কিছু সাধারণ জিনিস রয়েছে, যা আরশোলার উৎপাত কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
বাজারের কেমিক্যাল স্প্রে ব্যবহার না করে, এই উপায়ে তাড়ানোর চেষ্টা করুন
১. বেকিং সোডা এবং চিনি:
আরশোলা নিয়ন্ত্রণে এই মিশ্রণটি অনেকেই ঘরোয়া উপায় হিসেবে ব্যবহার করেন। চিনি আরশোলাকে আকৃষ্ট করতে পারে, আর বেকিং সোডা তাদের শরীরে প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। সমপরিমাণে এই দুটি জিনিস মিশিয়ে নিন। তারপর রান্নাঘরের যেসব জায়গায় এদের আনাগোনা বেশি, যেমন সিঙ্কের নিচে, ফ্রিজের পাশে বা কিচেন ক্যাবিনেটের কোণায়, খাবার ও বাসনপত্র থেকে দূরে অল্প পরিমাণে রাখতে পারেন।
২. তেজপাতা:
বাঙালির রান্নাঘরে তেজপাতা থাকবে না, তা কখনও হয় নাকি! এই তেজপাতার কড়া গন্ধ আরশোলাকে দূরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। কয়েকটা তেজপাতা হাত দিয়ে একটু গুঁড়ো করে নিন। তারপর সেগুলো আলমারির ভেতরে, স্টোর রুমে বা রান্নাঘরের বিভিন্ন কোণায় রেখে দিতে পারেন। তবে এটিকে আরশোলা নিয়ন্ত্রণের নিশ্চিত উপায় হিসেবে না দেখে, একটি ঘরোয়া প্রতিরোধমূলক পদ্ধতি হিসেবেই ব্যবহার করুন।
৩. রসুন এবং পেঁয়াজের পেস্ট:
রসুন আর পেঁয়াজের তীব্র গন্ধ আরশোলাকে কিছুটা দূরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। এই দুটোর একটি ঘন পেস্ট বানিয়ে নিন। তারপর জলের পাইপের মুখে বা আরশোলার ঢোকার সম্ভাব্য ফাটলের আশপাশে অল্প করে ব্যবহার করতে পারেন। তবে রান্নাঘরের খাবার বা খাবার রাখার পাত্রের কাছাকাছি এই মিশ্রণ ব্যবহার করবেন না।
৪. শসার খোসা:
অবাক লাগলেও, শসার খোসা আরশোলা দূরে রাখার একটি প্রচলিত ঘরোয়া উপায়। তাজা শসার খোসা কেটে রান্নাঘরের কোণায় কোণায় রাখতে পারেন। তবে এর কার্যকারিতা নিশ্চিত নয় এবং খোসা পড়ে থাকলে উল্টে পচে গিয়ে পোকামাকড় আকৃষ্ট করতে পারে। তাই ব্যবহার করলে নিয়মিত খোসা বদলে ফেলুন এবং রান্নাঘর পরিষ্কার রাখুন।
৫. কমলালেবু বা পাতিলেবুর খোসা:
লেবুর খোসায় থাকা প্রাকৃতিক তেলের গন্ধ কিছু পোকামাকড়কে দূরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। আপনি চাইলে লেবুর খোসা ব্যবহার করতে পারেন। কিচেন ক্যাবিনেটের আশেপাশে এগুলো রাখলে রান্নাঘরেও সতেজ গন্ধ থাকবে। তবে এটিও আরশোলা নির্মূল করার নিশ্চিত উপায় নয়।
সবশেষে একটা কথা মনে রাখা জরুরি, আসল কাজ হল ঘর সব সময় পরিষ্কার রাখা। খাবার সবসময় ঢাকা দেওয়া বা এয়ার টাইট কৌটোতে রাখবেন। বেসিনের জলের পাইপ লিক করলে তা দ্রুত সারিয়ে ফেলুন। দেওয়াল বা মেঝের ফাটল বুজিয়ে ফেলুন আর রোজকার ময়লা প্রতিদিন ডাস্টবিনে ফেলে দিন। রান্নাঘরে জল বা খাবারের অবশিষ্টাংশ জমতে দেবেন না। ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং আরশোলার ঢোকার রাস্তা বন্ধ করলেই এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।