গরম গরম মোমোয় কামড় বসাতে কে না ভালোবাসেন! সন্ধ্যে হলেই কলকাতার গলিতে গলিতে মোমোর সুবাস মন ভালো করে দেয় খাদ্যরসিকদের। সঙ্গে ওই ঝাল ঝাল লাল চাটনি আর গরম স্যুপ থাকলে তো আর কথাই নেই। কিন্তু রোজ রোজ দোকানের খাবার না খেয়ে, এই জিভে জল আনা খাবারটি যদি বাড়িতেই বানিয়ে ফেলা যায়?
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, “বাড়িতে তো স্টিমার নেই, মোমো বানাব কীভাবে?” একদম ভাববেন না! মোমো বানাতে আপনার দামি কোনও স্টিমারের প্রয়োজন নেই। রান্নাঘরের সাধারণ প্রেশার কুকার ব্যবহার করেই বানিয়ে ফেলা সম্ভব একেবারে দোকানের মতো তুলতুলে ও সুস্বাদু মোমো।
প্রথমেই ময়দা, অল্প তেল আর নুন একসঙ্গে মিশিয়ে জল দিয়ে একদম নরম একটা মণ্ড মেখে নিন। এরপর আধ ঘণ্টার জন্য ঢেকে রেখে দিন।
কড়াইতে তেল গরম করে আদা, রসুন, পেঁয়াজ ও চিকেন কিমা দিয়ে হালকা ভেজে নিন। ওপর থেকে সোয়া সস, নুন ও গোলমরিচ ছড়িয়ে ভালো করে মিশিয়ে নামিয়ে নিলেই মোমোর পুর তৈরি!
ময়দার মণ্ড থেকে ছোট ছোট লেচি কেটে পাতলা করে বেলে নিন। ভেতরে বেশ খানিকটা পুর দিয়ে নিজের পছন্দমতো মোমোর আকৃতি গড়ে নিন।
প্রেসার কুকারে কীভাবে বানাবেন?
প্রেশার কুকারে দেড় গ্লাস জল ঢালুন।
জলের ওপর একটি ফুটো করা থালা বা জালি স্ট্যান্ড বসান। খেয়াল রাখবেন, জালিটি যেন কোনওভাবেই জল না স্পর্শ করে।
জালিটির ওপর সামান্য তেল মাখিয়ে দিন, যাতে মোমো আটকে না যায়।
এবার একটু ফাঁকা ফাঁকা করে মোমোগুলো সাজিয়ে দিন।
প্রেশার কুকারের ঢাকনা বন্ধ করার আগে রবার ও সিটি (হুইসল) অবশ্যই খুলে নেবেন।
এবার মাঝারি আঁচে ১২ থেকে ১৫ মিনিট রাখুন। ভাপেই তৈরি হয়ে যাবে ধোঁয়া ওঠা নরম মোমো!
স্পেশাল ঝাল চাটনি কীভাবে বানাবেন?
টমেটো ও শুকনো লঙ্কা সেদ্ধ করে নিন। টমেটোর খোসা ছাড়িয়ে সেদ্ধ লঙ্কা আর রসুনের সঙ্গে মিক্সিতে পেস্ট বানিয়ে নিন। কড়াইতে সামান্য তেল দিয়ে ওই পেস্টটি ঢালুন। এতে সামান্য লেবুর রস, নুন ও চিনি দিয়ে একটু কষিয়ে নিলেই তৈরি আপনার চাটনি। গরম গরম এই মোমো আর চাটনি একসঙ্গে পরিবেশন করুন, বাড়ির সবাই চেটেপুটে খাবে!