
বাথরুমের বেসিন বা কলের গায়ে সাদা খসখসে দাগ জমলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়, তাই তো? সাবান কিংবা লিকুইড দিয়ে যতই ঘষাঘষি করুন, সেই জেদি ছোপ যেন উঠতেই চায় না। আপনি হয়তো ভাবছেন আপনার পরিষ্কার করায় ঘাটতি রয়েছে। কিন্তু আসল সত্যিটা একেবারেই তা নয়।
আসলে এই সাদা বা ছাইরঙা ছোপ মোটেই সাধারণ ময়লা নয়। একে বলা হয় ‘লাইমস্কেল’ বা খনিজ আস্তরণ। জলের মধ্যে ক্যালসিয়াম আর ম্যাগনেসিয়াম দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। জল শুকিয়ে গেলেই এই খনিজগুলো কলের গায়ে শক্ত হয়ে বসে যায়। আর আমরা যে সাবান বা লিকুইড ব্যবহার করি, তা তৈরি হয় তেল-চিটচিটে ময়লা কাটার জন্য। জলের এই খনিজ পদার্থ গলানোর ক্ষমতা সাবানের নেই। উল্টে সাবানের ফেনা এই ক্ষারের সঙ্গে মিশে আস্তরণ আরও বসিয়ে দেয়।
তাহলে উপায়? এই শক্ত দাগ দূর করতে প্রয়োজন অ্যাসিড। আর তার জন্য বাজার থেকে দামি কেমিক্যাল কেনার কোনও দরকার নেই। রান্নাঘরের সহজ কিছু জিনিসেই কেল্লাফতে!
১. সাদা ভিনিগার: ভিনেগারে থাকা অ্যাসিড খুব সহজেই এই শক্ত দাগ গলিয়ে জলে দ্রবণীয় করে দেয়। একটা সুতির কাপড় বা টিস্যু পেপার ভিনিগারে ভালো করে ভিজিয়ে নিন। এরপর সেটি দাগ ধরা কলের গায়ে ভালো করে মুড়ে জড়িয়ে রাখুন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট এভাবেই ছেড়ে দিন। জেদি দাগ হলে ঘণ্টা খানেক রাখতে পারেন। সময় হলে কাগজ বা কাপড়টি তুলে হালকা হাতে মুছে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কল দেখে মনে হবে যেন নতুন কিনে আনা হয়েছে!
২. লেবুর রস: ভিনিগারের গন্ধ যাঁদের পছন্দ নয়, তাঁরা লেবু ব্যবহার করতে পারেন। লেবুর অ্যাসিডও একই ভাবে দারুণ কাজ করে। একটা লেবু মাঝখান থেকে কেটে সোজা দাগের ওপর ভালো করে ঘষে দিন। মিনিট দশেক রেখে জল দিয়ে ধুয়ে শুকনো কাপড়ে মুছে নিন। বাথরুম চকচকেও হবে, আবার চমৎকার সুবাসেও ভরে উঠবে।
তবে একটা কথা মনে রাখা দরকার, এগুলোকে কাজ করার জন্য একটু সময় দিতে হবে। ভিজিয়েই ঘষাঘষি শুরু করলে কিন্তু কাজ হবে না। আর আপনার কল যদি দামি কোটিং বা বিশেষ পাথরের হয়, তবে অ্যাসিড ব্যবহারের আগে ম্যানুফ্যাকচারারের নিয়মগুলো দেখে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। প্রতিদিন ব্যবহারের পর একটা শুকনো কাপড় দিয়ে কল মুছে রাখলে এই দাগ আর কখনও জমতেই পারবে না।