
রান্নাঘর হল এমন এক রণক্ষেত্র যেখানে কাজ করতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। সকালের তাড়াহুড়োয় ওমলেট বানাতে গিয়ে বা কেকের ব্যাটার তৈরি করার সময় ডিম ফাটাতে দিয়েই ঘটে বিপত্তি। যখন হাত ফসকে কাঁচা ডিম সাধের পোশাকের ওপর গিয়ে পড়ে। অথবা কপাল থেকে ঘাম মুছতে গিয়ে ডিমের আঠালো হাতটাই চুলে লেগে যায়। তরল সেই চটচটে অংশটি জামায় বা চুলে লাগার সঙ্গে সঙ্গে মেজাজ বিগড়ে যাওয়া খুব স্বাভাবিক। শুধু যে একটি বিশ্রী দাগ তৈরি হয় তা নয়, কাঁচা ডিমের সেই তীব্র আঁশটে গন্ধ সারা দিন পিছু ছাড়তে চায় না। আবার রেশমি ও উজ্জ্বল চুলের আশায় অনেকেই ডিমের ওপর ভরসা রাখেন। প্রোটিনে ভরপুর এই জিনিসটি রূপচর্চা থেকে শুরু করে ডায়েট, সব জায়গাতেই সুপারহিট। তবে রূপচর্চার চক্করে মাথায় ডিমের প্যাক মেখে স্নান করার পর তা সহ্য করা একপ্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। দামি শ্যাম্পু ব্যবহার করার পরও অনেক সময় সেই জেদি গন্ধ কিছুতেই পিছু ছাড়তে ছাড়তে চায় না। চারপাশের মানুষ তখন নাক কুঁচকে তাকাতে শুরু করেন। এই বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাওয়ার এবং চুল ও জামাকাপড় থেকে ডিমের দুর্গন্ধ তাড়ানোর কিছু কার্যকরী ঘরোয়া উপায় রইল আপনার জন্য।
পাতিলেবু ও এসেনশিয়াল অয়েল
চুলের পুষ্টি ও কন্ডিশনিংয়ের জন্য ডিম মাথায় মাখার চল বহু পুরনো। কিন্তু ৩-৪ বার শ্যাম্পু করার পরেও যখন চুল থেকে পোলট্রি ফার্মের মতো গন্ধ বেরোতে থাকে, তখন পার্লারের মতো সুন্দর চুলের স্বপ্ন নিমেষেই ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। এই জেদি গন্ধ দূর করতে শ্যাম্পু করার পর এক মগ জলে একটি পাতিলেবুর রস মিশিয়ে চুল ধুয়ে নিতে পারেন। এছাড়া, ডিমের প্যাক লাগানোর সময় তাতে সামান্য টক দই বা কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিলে গন্ধ গোড়াতেই আটকে দেওয়া সম্ভব হয়। লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড ডিমের গন্ধকে পুরোপুরি নিস্তেজ করে দেয়।
ভিনিগার
রান্নাঘরে তাড়াহুড়ো করে কাজ করার সময় জামায় কাচা ডিমের তরল অংশ পড়ে যাওয়া খুব সাধারণ ঘটনা। সাধারণ সাবান দিয়ে কাচলে কিন্তু সেই গন্ধ কাপড়ের তন্তুর সঙ্গে আরও বেশি জড়িয়ে যায়। এর জন্য জামার সেই নির্দিষ্ট অংশে কিছুটা সাদা ভিনিগার (White Vinegar) বা বেকিং সোডা মাখিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিতে হবে। তারপর ঠান্ডা জলে ভালো করে ধুয়ে নিলেই কেল্লাফতে! ভিনেগারের অ্যাসিডিক উপাদান ডিমের গন্ধ ও দাগ দুই-ই এক ফুঁয়ে ধ্বংস করে দেয়।
ঠান্ডা জল
চুল হোক বা জামাকাপড়, ডিমের গন্ধ বা দাগ পরিষ্কার করার সময় একটি প্রাথমিক নিয়ম সবসময় মাথায় রাখা দরকার। কখনওই গরম জল ব্যবহার করা চলবে না। গরম জলের সংস্পর্শে এলে ডিমের প্রোটিন চুলের স্ক্যাল্পে বা কাপড়ের সুতোর সঙ্গে আরও শক্তভাবে জমাট বেঁধে যায়। সহজ কথায়, ডিমটি সেখানে ‘সেদ্ধ’ হয়ে যায়। ফলে গন্ধ আরও স্থায়ী রূপ নেয়। তাই সবসময় স্বাভাবিক বা ঠান্ডা জল ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
কফি পাউডার
ডিম মাথায় মাখতে গিয়ে বা রান্না করার সময় হাতে যে গন্ধ থেকে যায়, তা নামী ব্র্যান্ডের হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে বারবার ধুয়েও কাটে না। এই গন্ধ-সন্ত্রাস বন্ধ করার সহজ উপায় লুকিয়ে রয়েছে রান্নাঘরেই। সামান্য কফি পাউডার হাতে নিয়ে ভালো করে ঘষে ধুয়ে ফেললে ডিমের গন্ধ নিমেষেই কেটে যায়। কফির চড়া সুবাস ডিমের গন্ধকে পাত্তাই দেয় না। ঘরে কফি না থাকলে লেবুর খোসাও হাতে ঘষে নেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে বেকিং সোডাও বেশ ভালো কাজ দেয়।