
মুসুর ডাল হোক কিংবা ছোলার ডাল— বাঙালির দুপুরের পাতে ডাল ছাড়া যেন দুপুরের খানা ঠিক জমে না। কিন্তু রান্নাঘরে ডাল রান্না করতে গিয়ে কমবেশি প্রতিটি গৃহিণকেই এক অদ্ভুত বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয়। প্রেসার কুকারে ডাল সেদ্ধ করতে দিলেই সিটি পড়ার সময় ফেনা উপচে গ্যাস ও রান্নাঘরের স্ল্যাব একাকার হয়ে নোংরা হয়ে যায়। এরপর সেই চটচটে ময়লা পরিষ্কার করতে গিয়ে কালঘাম ছুটে যায়। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন এমনটা কেন হয়?
বিজ্ঞানের মতে, ডালে থাকা প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং স্টার্চ জলের সঙ্গে ফুটে ফেনা তৈরি করে। আর কুকারের ভেতরে বাষ্পের চাপে সেই ফেনা সিটির মুখ দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। তবে চিন্তা নেই! সামান্য কয়েকটি ছোট কৌশল বা টোটকা মেনে চললেই এই চিরন্তন ঝামেলা থেকে মিলবে পাকাপাকি মুক্তি।
১. জলের পরিমাণ ও কুকারের মাপ ঠিক রাখুন
ডাল রান্নার সময় এটিই সবচেয়ে বড় ভুল হয়ে থাকে। প্রেসার কুকার কখনই কানায় কানায় ভরবেন না। ডাল সেদ্ধ করার সময়ে ডাল ও জল মিলিয়ে কুকারের অর্ধেকের বেশি যেন কোনওভাবেই না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। ফেনা ও বাষ্প জমার জন্য কুকারের ভেতরে পর্যাপ্ত খালি জায়গা বা হেডস্পেস (Headspace) ছেড়ে দেওয়া জরুরি। সাধারণত ১ কাপ ডালের জন্য ২.৫ থেকে ৩ কাপ জলই একদম নিখুঁত পরিমাপ।
২. এক চামচ তেল বা ঘিয়ের জাদুকরী ব্যবহার
ডাল ধুয়ে কুকারে বসানোর ঠিক আগে তাতে ১ চা-চামচ তেল, ঘি কিংবা একটু মাখন মিশিয়ে দিন। রান্নার সময় এই সামান্য তেল বা ফ্যাট ফেনার ওপর আস্তরণ তৈরি করে ফেনা উপচে পড়তে বাধা দেয়। শুধু যে গ্যাস পরিষ্কার থাকবে তা নয়, এর ফলে ডালের স্বাদও বহুগুণ বেড়ে যাবে এবং ডাল সেদ্ধ হবে অনেক দ্রুত।
৩. প্রথম ফেনাটি ফেলে দিন
কুকারে দেওয়ার আগে ডালটি একটি খোলা পাত্রে বা সসপ্যানে সামান্য ফুটিয়ে নিতে পারেন। ডাল ফোটার সময় ওপরের অংশে যে ঘন সাদা ফেনা বা ময়লা জমে, তা একটি চামচ দিয়ে তুলে ফেলে দিন। এরপর সেই ডাল কুকারে সেদ্ধ বসান। এই পদ্ধতিতে ডালের ভেতরের অতিরিক্ত স্টার্চ আগেই বেরিয়ে যাওয়ায় কুকারে আর ফেনা তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে না। ফলে কুকার ও গ্যাস ওভেন একেবারে ঝকঝকে থাকে।
তাহলে আর দেরি কেন? আজই রান্নার সময় মেনে চলুন এই সহজ ঘরোয়া টিপসগুলো আর ডাল সেদ্ধ করার ঝামেলাকে বলুন চিরতরে বিদায়!