Fast charging battery damage: ফাস্ট চার্জার ব্যবহারের আগে সাবধান! এটা না জানলেই বোমার মত দুম করে ফাটবে

Smartphone battery health: ৩০ মিনিটে ফোন ফুল চার্জ হয়ে যাচ্ছে দেখে দারুণ খুশি? দাঁড়ান, বড় বিপদ কিন্তু চুপিচুপি আপনার ঘরের দিকেই এগোচ্ছে! ফাস্ট চার্জারের ওই ঝড়ের গতিতে চার্জ হওয়ার আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে মারাত্মক এক বৈজ্ঞানিক সত্য। বিজ্ঞানীদের মতে, সাধারণ এই একটি ভুলে আপনার হাতের প্রিয় স্মার্টফোনটি রূপ নিতে পারে এক জীবন্ত ‘টাইম বোমা’য়! ফাস্ট চার্জারে হাত দেওয়ার আগে জেনে নিন সেই বিপজ্জনক সত্যটি...

Fast charging battery damage: ফাস্ট চার্জার ব্যবহারের আগে সাবধান! এটা না জানলেই বোমার মত দুম করে ফাটবে
এই কাজ ভুলেও করবেন না?Image Credit source: Getty Images

Jul 20, 2026 | 1:09 PM

স্মার্টফোন এখন আমাদের জীবনের এমন এক সঙ্গী, যাকে ছাড়া এক মুহূর্তও চলা দায়। আর এই ব্যস্ত সময়ে অন্যতম বড় আশীর্বাদ হলো ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তি। মাত্র আধ ঘণ্টা বা এক ঘণ্টার মধ্যে শূন্য থেকে ১০০ শতাংশ চার্জ, যা আগে ভাবাই যেত না! শুধু ফোন নয়, ল্যাপটপ থেকে বৈদ্যুতিক গাড়ি, সব জায়গাতেই এখন রাজত্ব করছে এই প্রযুক্তি। কিন্তু প্রশ্ন হল, নিমেষের মধ্যে ফোন চার্জ করার এই আধুনিক প্রযুক্তির আড়ালে কি লুকিয়ে আছে বড় কোনও বিপদ? ফাস্ট চার্জিং কি সত্যিই ব্যাটারির আয়ু কমিয়ে দিচ্ছে?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এক কথায় উত্তর দিলে বলতে হবে, ‘হ্যাঁ, ক্ষতি হচ্ছে’। ফাস্ট চার্জিং মূলত নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে ব্যাটারির ভেতরের ক্ষয়কে ত্বরান্বিত করে।

আজকের গ্যাজেটগুলোতে থাকে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি, যার ভেতরে প্রধানত দুটি অংশ থাকে, ক্যাথোড এবং অ্যানোড। চার্জ করার সময় লিথিয়াম আয়নগুলো ব্যাটারির ভেতর দিয়ে ছুটে গিয়ে অ্যানোডে জমা হয়, আর ব্যবহারের সময় তা উল্টো পথে ফিরে আসে। সাধারণ চার্জিংয়ে কম কারেন্ট ব্যবহার করা হয় বলে আয়নগুলো শান্তভাবে অ্যানোডে গিয়ে বসে। ফলে ব্যাটারিতে চাপ পড়ে না। কিন্তু ফাস্ট চার্জিংয়ে কারেন্টের পরিমাণ একলফটে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। ফলে আয়নগুলোর মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। চিনের জিয়ান জিয়াওটং বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ঝিউয়ান জিয়াং জানান, এই প্রক্রিয়ায় ব্যাটারির মূলত দুই ধরনের ক্ষতি হয়:

লিথিয়াম প্লেটিং: আয়নগুলো দ্রুত ছোটার ফলে অ্যানোডে বসার সময় পায় না। এতে অ্যানোডের ওপর ধাতব আস্তরণ তৈরি হয়, যাকে লিথিয়াম প্লেটিং বলে। এতে ব্যাটারির ধারণক্ষমতা কমে। খারাপ পরিস্থিতিতে ভেতরে সূঁচের মতো ‘ডেনড্রাইট’ তৈরি হতে পারে, যা ব্যাটারি ফুটো করে দেওয়ার মতো বিপজ্জনক কাণ্ড ঘটাতে পারে।

অতিরিক্ত তাপ: দ্রুত কারেন্ট প্রবাহের কারণে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। এই উচ্চ তাপমাত্রা ব্যাটারির রাসায়নিক উপাদান নষ্ট করে এবং ব্যাটারি ফুলে যাওয়া বা বিস্ফোরণের ঝুঁকি বাড়ায়।

তবে আশার কথা হলো, আধুনিক ডিভাইসে ‘ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (BMS) থাকে। ফোন বেশি গরম হয়ে গেলে এই সিস্টেম নিজে থেকেই চার্জিংয়ের গতি কমিয়ে দেয়।

ব্যাটারির আয়ু বাড়ানোর সহজ উপায়:

১. ২০ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ব্যাটারির জন্য আদর্শ। কড়া রোদে ফোন রেখে চার্জ দেওয়া একদমই উচিত নয়।

২. চার্জ সবসময় ২০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে রাখলে ব্যাটারির ওপর চাপ কম পড়ে।

৩. ফুল চার্জ হয়ে যাওয়ার পরও সারাক্ষণ প্লাগ ইন করে রাখা এড়িয়ে চলুন।

Follow Us