বালির মধ্যে ডুবে থাকলেই চকচকে শরীর! জানেন ভাইরাল ‘এনজাইম বাথ’ কতটা বিজ্ঞানসম্মত ?

কখনও ব্ল্যাকহেডস তাড়াতে চারকোল মাস্ক, কখনও আবার কাচের মতো চকচকে ‘গ্লাস স্কিন’ পেতে কোরিয়ান সিরাম— রূপচর্চার দুনিয়ায় নিত্যনতুন ট্রেন্ডের শেষ নেই। তবে এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল এমন এক বিউটি ট্রেন্ড, যা দেখলে এক লহমায় মনে হতে পারে— মানুষটিকে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়েছে!

বালির মধ্যে ডুবে থাকলেই চকচকে শরীর! জানেন ভাইরাল এনজাইম বাথ কতটা বিজ্ঞানসম্মত ?

|

Jul 21, 2026 | 4:32 PM

দীপেন্দু পাল

কোরিয়ান বা জাপানিদের মতো গ্লাস স্কিনের এখন বিশ্বজুড়ে খুব চাহিদা। ভারত-সহ উপমহাদেশের অনেক মহিলাই ‘গ্লাস স্কিন’ পেতে অনেক টাকা খরচ করেন, বহু কাঠখড় পোড়ান। এছাড়া LED ফেস মাস্ক, বায়ো কোলাজেন মাস্ক, রেড লাইট থেরাপি, পেপটাইড — নিজেকে সুন্দর দেখাতে অনেকরকম পদ্ধতিরই এখন খুব চল। তবে, জনপ্রিয় ম্যাগাজিন VOGUE-এর তালিকা অনুযায়ী ইনস্টাগ্রাম বা টিকটকে ভাইরাল হওয়া বিউটি ট্রেন্ডের মধ্যে এখন অন্যতম জনপ্রিয় জাপানের ‘এনজাইম বাথ’ (Enzyme Bath) বা জাপানি ভাষায় ‘ওগাঝুকু-বুরো’ (Ogakuzu-buro)। গলা পর্যন্ত বালিতে ঘন্টার পর ঘন্টা ডুবে থাকার ‘ম্যাজিক থেরাপি’তে মজেছে নেটপাড়া।

কখনও ব্ল্যাকহেডস তাড়াতে চারকোল মাস্ক, কখনও আবার কাচের মতো চকচকে ‘গ্লাস স্কিন’ পেতে কোরিয়ান সিরাম— রূপচর্চার দুনিয়ায় নিত্যনতুন ট্রেন্ডের শেষ নেই। তবে এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল এমন এক বিউটি ট্রেন্ড, যা দেখলে এক লহমায় মনে হতে পারে— মানুষটিকে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়েছে! না, কোনও ভৌতিক সিনেমা বা ক্রাইম থ্রিলার নয়। এ হল জাপানের একেবারে লেটেস্ট এবং সুপারহিট রূপটান। যেখানে কাঠের গুঁড়ো আর বিশেষ এক ধরণের এনজাইম বা উৎসেচক মেশানো মাটি-বালির নিচে প্রায় এক ঘণ্টা গলা পর্যন্ত ডুবে থাকছেন মহিলারা। এই বিচিত্র থেরাপির নাম— ‘এনজাইম বাথ’।

কী এই এনজাইম বাথ?

সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রোল করলেই দেখা যাচ্ছে, একের পর এক সেলুন বা স্পা-তে কাঠের বড় বড় চৌবাচ্চা রাখা। তাতে ভরা রয়েছে সিডার বা সাইপ্রেস গাছের কাঠের মিহি গুঁড়ো, ধানের তুষ এবং ফল ও সবজি থেকে তৈরি বিশেষ কিছু প্রাকৃতিক এনজাইম।

মহিলাদের সেই মিশ্রণের ভেতরে শুইয়ে দিয়ে গলা পর্যন্ত ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। বাইরে কেবল জেগে থাকছে মাথাটুকু। ব্যস, এই অবস্থায় চুপচাপ শুয়ে থাকতে হবে প্রায় ৩০ থেকে ৫০ মিনিট।

কিন্তু কেন? এতে লাভ কী?

প্রথম দেখায় খটকা লাগলেও, এর পেছনে রয়েছে খাঁটি বিজ্ঞান এবং জাপানিদের প্রাচীন ঐতিহ্য।

স্বাভাবিক উত্তাপ : এই মিশ্রণে থাকা এনজাইম এবং ব্যাকটেরিয়াগুলো যখন কাঠের গুঁড়োকে ফারমেন্ট বা গেঁজিয়ে তোলে, তখন প্রাকৃতিকভাবেই এক ধরণের ওম বা উষ্ণতা তৈরি হয়। এই মিশ্রণের তাপমাত্রা প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে যায়! কোনও কৃত্রিম হিটার ছাড়াই এই গরমে শরীর থেকে হুহু করে ঘাম বেরোতে থাকে।

ডিটক্সিফিকেশন: চিকিৎসকদের একাংশের মতে, আধ ঘণ্টা এই এনজাইম বাথে শুয়ে থাকা আর প্রায় ২ ঘণ্টা জিম বা দৌড়ঝাঁপ করা সমান। প্রবল ঘামের চোটে শরীরের সমস্ত টক্সিন বা ক্ষতিকর বর্জ্য চামড়ার ছিদ্র দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে।

চকচকে ত্বক বা গ্লাস স্কিন: এনজাইমের গুণে ত্বকের মরা চামড়া বা ডেড সেল নিমেষেই পরিষ্কার হয়ে যায়। স্পা থেকে যখন কেউ উঠে আসেন, তাঁর ত্বক দেখায় একদম উজ্জ্বল, নরম এবং সতেজ।

ক্লান্তি দূর: সারা সপ্তাহের কাজের ধকল, পিঠের ব্যথা বা পেশির ক্লান্তি ম্যাজিকের মতো গায়েব করতে এই থেরাপির জুড়ি মেলা ভার। রক্ত সঞ্চালন বাড়াতেও এটি দারুণ সাহায্য করে।

ভিডিও কেন ভাইরাল?

আসলে, শুধু মাথাটুকু বালির স্তূপের উপরে রয়েছে, আর বাকি দেহ বালির নিচে- এই দৃশ্যটি দেখতে বেশ অদ্ভুত এবং মজার। ইনস্টাগ্রাম বা টিকটকের ইনফ্লুয়েন্সাররা যখন এই অভিজ্ঞতার ভিডিও শেয়ার করছেন, তা মুহূর্তে লুফে নিচ্ছেন নেটিজেনরা। অনেকেই একে বলছেন ‘ন্যাচারাল সনা বাথ’। যদিও জাপানে এই থেরাপির চল বেশ পুরনো, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে তা এখন গ্লোবাল ট্রেন্ড। সুন্দর ও সুস্থ থাকতে মানুষ যে কত দূর যেতে পারে, জাপানের এই ভাইরাল এনজাইম বাথই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ!

Follow Us